সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা তুলবে কনফিডেন্স পাওয়ার
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩৭ AM

চারদিকে সবুজের সমারোহ। নানা ধরনের ফুল ও ফলের গাছ। পেছনের দিকে বড় এক পুকুরে রুই-কাতলার চাষাবাদ হচ্ছে। আর পুকুরের চারদিকে হাঁস, মুরগি, টার্কির আলাদা আলাদা থাকার জায়গা। পাখিও পালন হচ্ছে একপাশে, আরেক পাশে সুন্দর অ্যাকুয়ারিয়ামে নানা জাতের ছোট ছোট মাছ। ঘুরে বেড়ানো আর সময় কাটানোর মতো এ জায়গা কোনো খামার নয়। এটি ফার্নেস তেলচালিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র।
বগুড়ায় ১১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পাশাপাশি চলছে এই সবুজ ক্যাম্পাসে। এটি পরিচালনা করছে কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার। জ্বালানি তেলে চালিত একই সক্ষমতার আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে তাদের রংপুরে। ৯ অক্টোবর বগুড়া ও ১০ অক্টোবর রংপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিনে এই পরিবেশ দেখা যায়। রংপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও সবুজে সাজানো।
৯ বছর ধরে বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসা করছে কনফিডেন্স পাওয়ার। যদিও এই গ্রুপের ব্যবসা শুরু হয় ১৯৯১ সালে, সিমেন্ট খাতে। এরপর নানা খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করেছে গ্রুপটি। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। আর কনফিডেন্স গ্রুপের সম্পদ প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার। গ্রুপের মোট ২০টি কোম্পানিতে কাজ করেন সাড়ে ৪ হাজার কর্মী।
তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সফলতার পর নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় পরিকল্পনা নিয়েছে কনফিডেন্স পাওয়ার। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে তারা। এর মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
বগুড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় এমন পরিকল্পনার কথা জানান কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমরান করিম। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট সহসা মিটবে না। তাই আরও অনেক দিন বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে তরল জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ভরসা করতে হবে। তবে বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে কনফিডেন্স পাওয়ারও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে কনফিডেন্স পাওয়ার। এর মধ্যে কক্সবাজার ও বাগেরহাটে ১০০ মেগাওয়াট করে মোট ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে যৌথ অংশীদার হিসেবে আছে বিদ্যুৎ খাতের আরেক পুরোনো কোম্পানি ডরিন পাওয়ার। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কনফিডেন্স।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে টাকা তুলতে যাচ্ছে কনফিডেন্স। বিনিয়োগকারীদের সামনে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব তুলে ধরতে আজ ১৮ অক্টোবর রোড শো আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের ৮৩ শতাংশ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি কেনা ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে খরচ করা হবে। বাকি ১৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ও ২ শতাংশ আইপিও সংশ্লিষ্ট খাতে খরচ করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে ৩৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কনফিডেন্স পাওয়ারের। এর মধ্যে ৩৩৯ মেগাওয়াট উত্তরবঙ্গে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ৫৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে তাদের।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও বিদ্যুতের চাহিদা-সরবরাহ নিয়ে একটি নিবন্ধ তুলে ধরেন ইমরান করিম। এতে বলা হয়, প্রতিবছর ৬ শতাংশের বেশি হারে বিদ্যুৎ–চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদনের সক্ষমতা সাড়ে ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অভাবে ৭ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে আরও প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে এ খাতে ১৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা ব্যবহার করার মতো থাকে, যা জ্বালানির অভাবে সব সময় চালানো যায় না।
ইমরান করিম বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা আছে। গ্যাস সরবরাহ শিগগিরই বাড়বে না। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেই ভরসা করতে হবে আমাদের। সরকারও সেদিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার। এর আগে মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এনেছে। সাত বছর ধরে নিয়মিত সরবরাহ করছে।’ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও তাঁরা সাফল্য পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দরপত্রেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার। বর্তমানের ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতাকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালেই ১ হাজার মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এরপর এটি আরও বাড়িয়ে দুই হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার কথা ভাবছে কোম্পানিটি। ব্যাটারিশিল্পেও বিনিয়োগ আছে কোম্পানিটির। তারা বলছে, দেশের চলমান জ্বালানিসংকটের সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
‘আমরা এখন আল্লাহর ওয়াস্তে চলি, আমাদের শখ মারা গেছে’
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩২ AM · বাংলা ট্রিবিউন
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি থেকে ঋণ পেতে ৮ জেলায় ১৮ হাজারের বেশি আবেদন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:২২ AM · বাংলা ট্রিবিউন
জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, কারণ কী
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:১৪ PM · প্রথম আলো
বিশ্বব্যাংকের দাতা হলো মঙ্গোলিয়া, দিচ্ছে ১৩ লাখ ডলার
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৬ PM · বাংলা ট্রিবিউন
