শাহজাদপুর সংবাদ

উৎসবমুখর পরিবেশে সিরাজগঞ্জে দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন

২১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:২৫ PM

উৎসবমুখর পরিবেশে সিরাজগঞ্জে দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন

দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।

টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির সঙ্গে ভক্তদের আনন্দ-বেদনার অশ্রু মিশিয়ে সিরাজগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন। যমুনা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দযজ্ঞের।

বিজয়া দশমীর ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল থেকেই জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নামে ভক্তদের ঢল। মণ্ডপে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা, অঞ্জলি প্রদান এবং শেষ আরতি। বিবাহিত নারীরা একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর পরিয়ে পরিবারের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

বিকেল গড়াতেই সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে একে একে বের হতে শুরু করে বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা। ট্রাক ও পিকআপে প্রতিমা সাজিয়ে বাদ্যের তালে তালে নাচ-গান করতে করতে ভক্তরা এগিয়ে যান নদীর ঘাটের দিকে। ‘আসছে বছর আবার হবে’ এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর।

শোভাযাত্রাগুলো শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে যমুনা নদীর পুরাতন জেলখানা ঘাট, মতি সাহেবের ঘাট এবং শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় গিয়ে জমায়েত হয়। যমুনার তীরে তখন সৃষ্টি হয় এক অভাবনীয় ধর্মীয় আবহ ও উৎসবের আমেজ।

নদীর তীরে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের পর সুশৃঙ্খলভাবে একে একে প্রতিমা জলে ভাসিয়ে বিদায় জানানো হয় দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে।

আগামী বছর দেবী আবার মর্ত্যলোকে ভক্তদের মাঝে ফিরে আসবেন এমন প্রত্যাশায় অশ্রুসজল চোখে ভক্তরা শেষবারের মতো দেবীর চরণে প্রণাম নিবেদন করেন। বিসর্জন শেষে ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ‘শুভ বিজয়া’র শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যমুনা নদীর প্রধান প্রধান ঘাট এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন ছিল পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি নদীতে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হয়। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কড়া নজরদারিতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এ বছরের প্রতিমা বিসর্জন পর্ব সমাপ্ত হয়।

সূত্র: Desh Tv

সম্পর্কিত সংবাদ