শাহজাদপুর সংবাদ

আইএইচটি ও ম্যাটস কোর্স, ৪২৮৩ আসনে ভর্তিতে আবেদন যেভাবে

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:২৩ AM

আইএইচটি ও ম্যাটস কোর্স, ৪২৮৩ আসনে ভর্তিতে আবেদন যেভাবে

মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ভর্তিতে আবেদন শুরু হয়েছে। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ শুরু হওয়া আবেদন কার্যক্রম চলবে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ নভেম্বর ২০২৬। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

ভর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

৬ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পরদিন একই সময় পর্যন্ত ফি জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। ৯ ও ১০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। আর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত।

ভর্তি–ইচ্ছুক প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করবেন। একজন প্রার্থী যেকোনো একটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ৮০০ টাকা। এ টাকা অফেরতযোগ্য ও প্রিপেইড টেলিটকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

মোট আসন কত

এ বছর মোট ২৩টি আইএইচটি এবং ৭টি ম্যাটসে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে আইএইচটিতে মোট আসন ৩ হাজার ৬১৯টি, আর ম্যাটসে ৬৬৪টি—মোট আসন ৪ হাজার ২৮৩।

আইএইচটিগুলোর আসনসংখ্যা

ঢাকায় ৩২৭, রাজশাহী ২৭৭, বগুড়া ৩০৭, চট্টগ্রাম ২৭৭, বরিশাল ২৭৭, রংপুর ২৭৭, ঝিনাইদহ ২৭৭, সিলেট ২৫৭, সিরাজগঞ্জ ১০৩, সাতক্ষীরা ১০৩, জামালপুর ২০৬, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ১০৩, গাজীপুর ১০৩, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ১০৩, জয়পুরহাট ১০৩, মাদারীপুর ১৫৫, মানিকগঞ্জ ৫২, মুন্সিগঞ্জ ৫২, নোয়াখালী ৫২, নওগাঁ ৫২, কুড়িগ্রাম ৫২, ময়মনসিংহ ৫২ এবং মাদারীপুরের শিবচরে ৫২ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ম্যাটসে আসনসংখ্যা

বাগেরহাটে ১৫২, কুষ্টিয়া ১০২, নোয়াখালী ১০২, সিরাজগঞ্জ ১০২, টাঙ্গাইল ১০২, কুমিল্লা ৫২ ও ফরিদপুরে ৫২টি আসন আছে।

সংরক্ষিত আসন

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতির প্রার্থীদের জন্য মোট আসনের ১% আসন সংরক্ষিত থাকবে। আইএইচটিগুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতির প্রার্থীদের জন্য ১% আসন সংরক্ষণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুষদের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে কোনো অনুষদে একজনের অধিক প্রার্থী বিবেচিত হবেন না এবং ম্যাটসসমূহের ভর্তির ক্ষেত্রেও ১% আসন সংরক্ষণ করা হবে। উপজাতির প্রার্থীদেরও অন্যান্য সাধারণ প্রার্থীর মতো একই শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার দিন কার্যকর সরকারের সর্বশেষ বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে এবং কোনো সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

বেসরকারি ম্যাটস-আইএইচটিতে ভর্তি

অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধাক্রম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন দাখিলকারী শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি ভর্তির অনুমোদন প্রদান করবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫% আসন মেধারী ও অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এরূপ আসনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন-ভাতাদি ও সেশন চার্জের অতিরিক্ত কোনো প্রকার ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি কোর্সে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী ৯ মাস হাসপাতালে সংযুক্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল/ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল/ইনস্টিটিউট/ বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া ম্যাটসের শিক্ষার্থীদের কোর্স শেষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত লগবুক অনুযায়ী নিকটস্থ জেলা সদর হাসপাতাল অথবা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট যেকোনো হাসপাতালে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।

ভর্তির যোগ্যতা ও আবেদন যেভাবে

* প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।

* ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ৪ শিক্ষাবর্ষের যেকোনো এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন।

*প্রার্থীকে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। একই সঙ্গে জীববিজ্ঞান বিষয়ে অবশ্যই ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন কীভাবে

এসএসসির সিলেবাস অনুযায়ী ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা এক ঘণ্টায় গ্রহণ করা হবে। মানবণ্টন অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ১৫ নম্বর করে এবং সাধারণ জ্ঞানে নম্বর হবে ১০। এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএর ৫-এর গুণিতক দ্বিগুণ হিসেবে ১০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল থেকে জাতীয় মেধা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীরা কোনো সরকারি ও বেসরকারি আইএইচটি ও ম্যাটসে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

ভর্তির আরও বিস্তারিত সব তথ্য দেখুন এখানে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ