বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫
মুক্তিযুদ্ধ মানব জীবনের চলমান সংস্কৃতি। জীবনযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের একটি অংশ। কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কোন জাতিগোষ্ঠি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ দ্বারা কিম্বা রাষ্ট্রের তৈরী আইন, অপ-শাসন, অপসংস্কৃতির মাধ্যমে শোষন-বঞ্চনা, বৈষম্য এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে যখন একা একা জীবনযুদ্ধে পরাজিত হতে থাকে তখন মানুষ কোন না কোন রাজনৈতিক তত্ব, দর্শন কিম্বা কর্মকৌশলের মাঝে নিজের নিজেদের মুক্তির স্বপ্ন দেখে এবং মুক্তির পথ খুঁজতে থাকেন। নিজেদের চেতনাকে শানিত করে জ্ঞানসম্মতভাবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। এভাবে একে একে মানুষ মুক্তির অন্বেষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত হন। এ ধরনের ঐক্য তৈরি হয় মানুষের কল্যাণে মানবের মুক্তির লক্ষ্যে সৎ আদর্শবান ও বিবেক সম্পন্ন ত্যাগী মানুষদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচী আবর্তে। মানবের মুক্তির জন্য নিয়মতান্ত্রিক যে ধারাবাহিক সংগ্রাম হয়, তাকে বলা যায়- মুক্তির সংগ্রাম। জনগণের নিয়মতান্ত্রিক মুক্তির সংগ্রাম যখন ব্যার্থ হয় তখন সংঘবদ্ধ মানুষ মুক্তির জন্য অনিয়মতান্ত্রীক পথে স্বশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সেটি কখনো কখনো গণতান্ত্রীক অথবা সমাজতান্ত্রীক সাম্যের শাসন ব্যবস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়নের যাত্রাপথের রূপ লাভ করতে পারে। আবার ব্যার্থও হতে পারে। কোন ধরনের সংস্কৃতির ধারক বাহক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা কিম্বা আন্দোলন সংগ্রাম পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হচ্ছে বা হয়েছিল তার ওপর নির্ভর করে। তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠির শোষন বঞ্চনা, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংগালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটার মধ্যদিয়ে ২৩ বছরের পাকিস্তানের ভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের ঐক্য সংহতির ধারাবাহিকতায় বাংগালির মুক্তিসংগ্রাম শেষ হয়েছিল ১৯৭০ সালের পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিক দল হিসেবে সাধারন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানের শাসক গোষ্টি আওয়ামীলীগের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্পন করেনি। সে কারনে বাংগালির মুক্তিসংগ্রাম অবশেষে স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রুপান্তরিত হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ মানুষের জীবনদান ও ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহন তাঁদের রক্তে ও ত্যাগের বিনিময়ে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মদ্যদিয়ে বাংগালি জাতী স্বাধীনত্বা ও স্বতন্ত্র পতাকার উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, এতো বড় একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের রচিত সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীন হয়েছে-এমন কথা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। মোটকথা মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা শব্দ দু'টি সংবিধানে অনুপুস্থিত। এখন প্রশ্ন জাগে-তাহলে মুক্তিযোদ্ধা,শহীদ, বীর শ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর প্রতিকেরা এলন কোথা থেকে? তাহলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধটি কি ষোল আনাই মিছে? মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম তারিখ-২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ, ১০ পৌষ- ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সোমবার, বিকেল - ০৪ টা ৩৫ মিনিট

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে ট্যাংকলরী-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া গ্রামের আজগার মুন্সির ছেলে আব্দুল খালেক মুন্সি(৬০) ও একই ইউনিয়ন...

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্ডলের নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ ও হতদ...

শাহজাদপুরে মাদলা ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে বাঘাবাড়ী কিংস চ্যাম্পিয়ন

খেলাধুলা

শাহজাদপুরে মাদলা ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে বাঘাবাড়ী কিংস চ্যাম্পিয়ন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ইউনিয়ন কাপ টি-২০ ক্রিকেট ফাইনাল