শাহজাদপুর সংবাদ

হাতির শুঁড়কে প্রকৃতির বিস্ময় বলা হয় কেন

১৩ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৪৩ PM

হাতির শুঁড়কে প্রকৃতির বিস্ময় বলা হয় কেন

গতকাল বুধবার ছিল বিশ্ব হাতি দিবস। প্রতিবছর বিশ্ব হাতি দিবসে স্থলভাগের এই বিশাল ও শান্ত প্রাণীকে ভালোবাসার এবং তাদের সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। বিজ্ঞানের চোখে হাতি কেবল একটি বিশাল প্রাণীই নয়, এটি মূলত বিবর্তনের এক অবিশ্বাস্য বায়ো-প্রযুক্তিগত বিস্ময়। হাতির শুঁড়কে প্রকৃতির সবচেয়ে অদ্ভুত সুইস আর্মি নাইফও বলা হয়। বিভিন্ন কাজ করা যায় বলে হাতির শুঁড়ের এই অদ্ভুত নামকরণ হয়েছে।

হাতির শুঁড়কে প্রকৃতির বিস্ময় বলা হয়। কারণ, মানুষের পুরো শরীরে হাড়-পেশি মিলিয়ে মোট পেশির সংখ্যা ৬০০টির কিছু বেশি। কিন্তু হাতির শুঁড়ে কোনো হাড় বা তরুণাস্থি নেই। এটি পুরোপুরি পেশি দিয়ে তৈরি। হাতির শুঁড়ে প্রজাতিভেদে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজারটি ভিন্ন ভিন্ন পেশিকলা থাকে। এই অসাধারণ গঠনের কারণেই হাতি তার শুঁড় দিয়ে টনের বেশি বিশাল গাছের গুঁড়ি যেমন উপড়ে ফেলতে পারে, তেমনি একদম সূক্ষ্ম স্পর্শে মাটি থেকে একটা পুদিনাপাতা বা ছোট্ট চিপস ভেঙে না ফেলে আলতো করে তুলে নিতে পারে।

হাতির শুঁড়কে সুপারসনিক পানির পাম্পের সঙ্গেও তুলনা করেন অনেকে। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, হাতির শুঁড় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫০ মিটার বেগে বাতাস টানতে পারে। মানুষ হাঁচি দিলে ঘণ্টায় প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বের হয়। হাতি তার চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি গতিতে শুঁড় দিয়ে পানি বা বাতাস টেনে নিতে পারে! এক টানে হাতি প্রায় ৮ থেকে ৯ লিটার পানি শুঁড়ের ভেতর ধরে রাখতে পারে। হাতি কিন্তু শুঁড় দিয়ে সরাসরি পানি পান করে না। শুঁড়ে পানি টেনে এনে তা পাইপের মতো মুখে ঢেলে দেয়।

হাতির শুঁড় হলো মূলত তাদের নাক এবং ওপরের ঠোঁটের এক অসাধারণ বিবর্তিত রূপ। আফ্রিকান হাতির শুঁড়ের একদম মাথায় দুটো এবং এশিয়ান হাতির মাথায় একটি আঙুলের মতো সংবেদনশীল অংশ থাকে। এটি দিয়ে তারা স্পর্শ অনুভূতি লাভ করে ও নিখুঁতভাবে বস্তু ধরে।

দারুণ একটা মজার তথ্য হচ্ছে, হাতি কেবল কান দিয়ে শোনে না, তারা পায়ের পাতা দিয়েও সংকেত গ্রহণ করে! যখন কোনো হাতি হুঙ্কার দেয় বা মাটিকে আঘাত করে, তখন ভূকস্পন তরঙ্গ তৈরি হয়। দূরবর্তী অন্য হাতিরা তাদের পায়ের সংবেদনশীল স্নায়ুর মাধ্যমে মাটির সেই কম্পন অনুভব করে বুঝতে পারে বন্ধু নাকি শত্রু আসছে।

আফ্রিকা ও এশিয়ায় বসবাসকারী হাতিদের মধ্যে প্রজাতি ও শারীরিক গঠনে স্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। আফ্রিকার হাতি আকৃতিতে বড় হয়। এদের দুটি প্রজাতি রয়েছে। আফ্রিকান সাভানা হাতি ও আফ্রিকান ফরেস্ট হাতি। আফ্রিকান সাভানা হাতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী, যাদের উচ্চতা ১০ থেকে ১৩ ফুট এবং ওজন ৩৬০০ থেকে ৬ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এদের কান অনেক বড় হয় এবং পুরুষ ও স্ত্রী উভয় হাতিরই বড় দাঁত থাকে। আর এশিয়ান হাতি এশিয়ার বনাঞ্চলে থাকে। এই হাতিগুলোর কান অপেক্ষাকৃত ছোট ও গোলাকার। এদের উচ্চতা ৬.৫ থেকে ১১.৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ৫ হাজার কেজি হয়। এদের কেবল কিছু সংখ্যক পুরুষ হাতির পূর্ণাঙ্গ বড় দাঁত গজায়, বাকিদের ছোট ছোট গজদাঁত থাকে।

হাতি নারী হাতির নেতৃত্বে গঠিত দলে বা পরিবারে বাস করে। সবচেয়ে বয়স্ক অভিজ্ঞ নারী হাতি দলনেতা হিসেবে খাদ্যের উৎস ও নিরাপদ পথ খুঁজে বের করে। পুরুষ হাতি বয়ঃসন্ধিকালে দল ছেড়ে একা বা ছোট পুরুষ দলে বসবাস শুরু করে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ