শাহজাদপুর সংবাদ

স্টার্টআপ বাংলাদেশের ৪০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা, কারা পাবে তহবিল

১৮ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৪১ AM

স্টার্টআপ বাংলাদেশের ৪০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা, কারা পাবে তহবিল

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের উদীয়মান স্টার্টআপ খাত বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। মোট বিনিয়োগের মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই স্টার্টআপ অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) চালু করেছে বাংলাদেশ ‘ফান্ড অব ফান্ডস’। ১৬ আগস্ট আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইসিটিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ দেশি-বিদেশি অংশীজনদের উপস্থিতিতে এই ৪০০ কোটি টাকার তহবিল উদ্বোধন করা হয়।

সাধারণত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল সরাসরি একক কোনো স্টার্টআপের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেয় না। ফান্ড অব ফান্ডস কাঠামোতে মূল তহবিলটি সরাসরি স্টার্টআপে বিনিয়োগ না করে পেশাদার ও অভিজ্ঞ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মধ্যে বণ্টন করা হবে। বাংলাদেশের সরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নুরুল হাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ফান্ড আসলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করবে। বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন স্টার্টআপ খুঁজে বের করে বিনিয়োগ করবে। আমরা পুরো স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করব। যেহেতু এটি একটি পরোক্ষ অর্থায়ন ব্যবস্থা, তাই কোনো স্টার্টআপ সরাসরি আবেদন করে এই ফান্ড থেকে অর্থ পাবে না। সরকারনিবন্ধিত ও অনুমোদিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এখানে আবেদন করতে পারে। যেসব ফান্ড প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা, স্থানীয় বাজারের সমস্যা সমাধান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণে কাজ করছে, তাদের নিয়েই কাজ করব আমরা। ফান্ডের অডিট রিপোর্ট, সঠিক এবং আইনগত বৈধতা থাকা বাধ্যতামূলক।’ ইওআই জমা দেওয়ার ঠিকানা । এ ছাড়া বিস্তারিত জানা যাবে এই ওয়েবসাইটে ।

স্টার্টআপ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডসের মতো প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এ ধরনের উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে স্টার্টআপ খাতের ভূমিকা দিন দিন জোরালো হচ্ছে। তবে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনের অভাব এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এত দিন বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারের মন্দা বা ভূরাজনৈতিক সংকটে দেশীয় স্টার্টআপগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ত। ৪০০ কোটি টাকার এই ফান্ড অব ফান্ডস চালু হওয়ার ফলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।’

পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে অর্থ বণ্টন করা হলে অনুদানের বদলে প্রকৃত ইক্যুইটি বিনিয়োগের সংস্কৃতি তৈরি হয়। এতে সরকারি অর্থের ঝুঁকি কমে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্টার্টআপগুলোর মূল্যায়ন সম্ভব হয়। এই ফান্ডের সাফল্যের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত রেখে সম্পূর্ণ পেশাদার ও নিরপেক্ষ উপায়ে ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচন করতে হবে। স্বজনপ্রীতি বা ভুল প্রজেক্টে বিনিয়োগ হলে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ