কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলো ফ্রান্সের আদালত
১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ৮:২৭ AM

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব আটকে দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকায় আদালত তা বাতিল করেছে।
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট গত জুলাইয়ে বিলটি অনুমোদন করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতো না। আগে থেকে থাকা অ্যাকাউন্টগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা ছিল।
তবে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ বলেছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কীভাবে এবং কোনও সীমার মধ্যে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বয়সের প্রমাণ নেওয়া হবে, তা আইনে যথেষ্ট স্পষ্ট করা হয়নি। পরিষদের মতে, এই অস্পষ্টতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও অসম মাত্রার হস্তক্ষেপ তৈরি করে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অনলাইন শিশু সুরক্ষা পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। তবে সরকার বিষয়টি এখানেই থামিয়ে দিতে চাইছে না। ম্যাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুকে আদালতের আপত্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনটির নতুন খসড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাটি ইউরোপে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় উদ্যোগ ছিল। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল। চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশও তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে গেলে শুধু শিশু নয়, অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকেও নিজের বয়সের প্রমাণ দিতে হতে পারে। ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদের আপত্তির অন্যতম কারণ ছিল এই বিষয়টি।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এ ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। গুগল, মেটা, স্ন্যাপ ও টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের সুরক্ষায় নিজেদের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকার কথা বললেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা মেনে চলার কথা জানিয়েছে।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তে তাই একটি বিষয় নতুন করে সামনে এসেছে। শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও অনলাইন ঝুঁকি থেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেই ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাক্রোঁর সরকার নতুন করে আইনটি সাজানোর উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। ২০২৭ সালের বসন্তের আগেই সংশোধিত আইন কার্যকর করার ব্যাপারে ম্যাক্রোঁ সরকার আগ্রহী। ফলে ফ্রান্সে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়ম এখন আবারও নতুন করে আলোচনায় আসতে যাচ্ছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
আপনার এআই অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ ব্যবহার করছে কি না, বুঝবেন যেভাবে
১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:০০ AM · প্রথম আলো
বেশি ওয়াটের চার্জার দিয়ে কম ওয়াট-সমর্থিত ফোনে চার্জ দিলে কি ক্ষতি হয়?
১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:২৫ AM · বাংলা ট্রিবিউন
এআই কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক সরানোর সুযোগ দিতে যাচ্ছে গুগল
১৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ৯:২৫ AM · বাংলা ট্রিবিউন
১১০ দেশে আইফোনে অ্যাপলের স্পাইওয়্যার সতর্কতা, কারা রয়েছেন ঝুঁকিতে?
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:২০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
