শাহজাদপুর সংবাদ

সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কার্সনের সঙ্গে মেরিলিন মনরোর কী সম্পর্ক

৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩০ AM

সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কার্সনের সঙ্গে মেরিলিন মনরোর কী সম্পর্ক

২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কার্সনের সঙ্গে রয়েছে মেরিলিন মনরোর একটি বিশেষ যোগ।

মেরিলিন মনরোকে নিয়ে পৃথিবীতে কম লেখা হয়নি। হলিউডের স্বর্ণযুগের এই কিংবদন্তি তারকার জীবন, সৌন্দর্য, প্রেম, একাকিত্ব ও রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে অনেক বই, সিনেমা ও গবেষণা। কিন্তু মেরিলিনকে যখন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিক পুরাণের এক নারীর সঙ্গে পাশাপাশি বসান একজন সাহিত্যিক, তখন গল্পটি হয়ে ওঠে অন্য রকম।

কার্সনের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা হলো ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’। সিনেমার ভক্ত মাত্রই জানেন নর্মা জিন বেকার ছিল মেরিলিন মনরোর আসল নাম। ২০১৯ সালে মঞ্চে আসা এই কাব্যনাট্যে কারসন একদিকে রেখেছেন মেরিলিন মনরোকে, অন্যদিকে গ্রিক পুরাণের হেলেন অব ট্রয়কে। দুই নারী দুই ভিন্ন সময়ের মানুষ—একজন প্রাচীন গ্রিসের পৌরাণিক চরিত্র, অন্যজন বিংশ শতকের হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন।

কিন্তু কারসনের চোখে তাঁদের মধ্যে একটি গভীর মিল রয়েছে: সৌন্দর্য ও আকর্ষণের কারণে তাঁরা দুজনই নিজেদের সময়ের মানুষের কল্পনা, আকাঙ্ক্ষা ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিলেন।

হেলেনকে গ্রিক পুরাণে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী। তাঁর সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মেরিলিন মনরো ছিলেন হলিউডের ‘সেক্স সিম্বল’, যাঁর আবেদনময়ী ইমেজ তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছিল। কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রেই একটি বিষয় লক্ষণীয়—তাঁদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তার চেয়ে তাঁদের সৌন্দর্য ও অন্যের চোখে তাঁদের আকর্ষণ অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

কার্সনের ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ মূলত সেই জায়গাটিকেই প্রশ্ন করে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের দ্য শেডের গ্রিফিন থিয়েটারে এটি মঞ্চস্থ হয়। অভিনয় করেছিলেন বেন উইশ ও সোপ্রানো রেনে ফ্লেমিং; পরিচালনা করেছিলেন কেটি মিচেল।

কেন মেরিলিন

অ্যান কার্সনের সাহিত্যজগৎ মূলত প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য, পুরাণ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বহুল আলোচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ ও ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’। তিনি কবিতা, গদ্য, নাটক, অনুবাদ ও সমালোচনাকে একসঙ্গে মিশিয়ে লেখার জন্য পরিচিত।

রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ