শাহজাদপুর সংবাদ

সালমানের ‘কালা হিরণ’ নিয়ে নতুন মোড়, সুপ্রিম কোর্টে প্রযোজক

২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:০০ PM

সালমানের ‘কালা হিরণ’ নিয়ে নতুন মোড়, সুপ্রিম কোর্টে প্রযোজক

সালমান খানকে ঘিরে ১৯৯৮ সালের আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ছায়ায় নির্মিত ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ নিয়ে আইনি লড়াই এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। সিনেমাটির টিজার ও প্রচারণার বিভিন্ন উপকরণ সরিয়ে নিতে দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রযোজক অমিত জানি।

বিতর্কের কেন্দ্রে বলিউড তারকা সালমান খানের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার। গত ২৭ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট সিনেমাটির নির্মাতাদের টিজারসহ সংশ্লিষ্ট প্রচারণার উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ছিল, এসব উপকরণে সালমানের ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে তাঁর ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

টিজারেই বিতর্কের শুরু১৭ জুলাই ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’র টিজার ও পোস্টার প্রকাশের পরই বিতর্কের সূত্রপাত। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, পডকাস্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিটির প্রচারণা শুরু হয়। সালমানের অভিযোগ, তাঁর অনুমতি ছাড়াই এসব প্রচারণায় তাঁর পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।আদালতে করা মামলায় সালমান দাবি করেন, প্রায় দুই মিনিটের টিজারে ‘আয়ান খান’ নামের একটি কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করা হলেও চরিত্রটির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাঁকেই তুলে ধরা হয়েছে। টিজারে তাঁর অভিনীত ‘দাবাং’ ও ‘সিকান্দার’ সিনেমার প্রসঙ্গের পাশাপাশি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারসংক্রান্ত তাঁর দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে অভিযোগ।

হাইকোর্টের আদেশে আপত্তি প্রযোজকেরদিল্লি হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টে গেছেন প্রযোজক অমিত জানি। তাঁর দাবি, টিজার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সালমানের ব্যক্তিত্বকে ঠিক কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

প্রযোজকের আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিত্বের অধিকারকে যেন ‘ব্যক্তিগত সেন্সরশিপের’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। জনপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এবং ইতিমধ্যে জনপরিসরে থাকা কোনো ঘটনা চলচ্চিত্রে তুলে ধরার পথ বন্ধ হলে তা সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাঁর যুক্তি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নওঅমিত জানির দাবি, ব্যক্তিত্বের অধিকারের যুক্তিতে জনপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা চলচ্চিত্রে তুলে ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা এলে এর প্রভাব শুধু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত আরও অনেক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

যে মামলা ঘিরে ছবির গল্প‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত বলে দাবি নির্মাতাদের। ছবির গল্পে এক সুপারস্টারের বিরুদ্ধে চলা মামলা এবং সেটিকে ঘিরে আইনি লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। আদালতকেন্দ্রিক এ নাটকে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার নানা দিক উঠে এসেছে।

১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই ভারতের বিনোদন অঙ্গনে বহু বছর ধরেই আলোচিত।এবার সেই ঘটনার ছায়ায় নির্মিত সিনেমাই নতুন এক আইনি লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের আদেশে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেন কি না, এখন সেদিকেই নজর নির্মাতা ও সালমান—দুই পক্ষের।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ