শাহজাদপুর সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ৫:০৯ PM

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো করতে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আজ সোমবার সিপিডির আয়োজনে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর অনুষ্ঠিত মিডিয়া সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ কথা বলেন। সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ছয় মাসেও বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেন পারছেন না? একটা বড় বিষয় আছে, আর্থিক সক্ষমতা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা (৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা), তা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হবে।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বেতন–কাঠামোর যে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে, তা মূল্যায়ন করে ভাগে ভাগে বেতন-কাঠামো বাস্তবায়নের একটা সুপারিশ এসেছিল এবং তা সবাই মেনেও নিয়েছিল। এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে দিতেন আর সময় প্রার্থনা করতেন, সেটা খুব ভালো হতো। এখন যে জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে, তা ভালো হয়নি।’

বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে সরকারের অন্যান্য কাজও বিঘ্নিত হবে।

সরকারের ছয় মাসের পারফরম্যান্স নিয়ে সিপিডি বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৩ প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ মানুষ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ সরকার যখন আসে, তখন উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা পেয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও তখন ইতিবাচক ছিল না। শুরু হয় যুদ্ধ। সমস্যা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে এ সরকার একটি সমন্বিত দলিল তৈরি করল না। এ কারণে এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বারবার বলছে যে তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। ফলে এখন সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে পরিসংখ্যানের সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন সরকারের কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এ কথা উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ বিষয়ে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আবার সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রেও সমন্বিত কোনো কর্মপরিকল্পনা দেখা যায়নি। ইশতেহারে যেসব কমিশনের কথা বলা হয়েছিল, সেখানেও অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা করেছে বলে জানান দেবপ্রিয়। এগুলোকে ৯টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতিরও ব্যত্যয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ