শাহজাদপুর সংবাদ

বাজারে আটা-চিনির সরবরাহে টান, বেড়েছে দাম

২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৩০ AM

বাজারে আটা-চিনির সরবরাহে টান, বেড়েছে দাম

গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। বিশেষ করে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তাতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে আটার দামও।

পাইকারি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চিনিকলের উৎপাদন কমে গেছে। এতে বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক না থাকায় পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

আবুল হাসেম জানান, মিলের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি (ট্রাক) দাঁড়িয়ে থাকলেও চাহিদামতো সরবরাহ মিলছে না। কোনো কোনো কারখানা ২৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ দিতে পারছে না, আবার কোনো কোনো মিলের সরবরাহ একেবারেই বন্ধ।

অন্যদিকে ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিনের সরবরাহ কিছুটা কমলেও পণ্যটির দাম এখনো বাড়েনি। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় সরবরাহ কমায় পাম তেলের দাম প্রতি মণে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে; অর্থাৎ পাইকারিতে পাম তেলের দাম কেজিতে ১ টাকার মতো বেড়েছে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম বলেন, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় পূর্ণ শক্তিতে উৎপাদন চালু রাখতে পারছে না অনেক কোম্পানি। এ কারণে আমাদেরও মিল থেকে চিনি, তেল পেতে দেরি হচ্ছে। মিল গেটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে গাড়ি।

এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা হুমায়ুন কবীর জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। খুচরা দোকানে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়, কয়েক দিন আগেও এই দাম ছিল ১০৫ টাকা; অর্থাৎ কেজিতে চিনির দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

চিনির পাশাপাশি দাম বেড়েছে প্যাকেজজাত আটার দামও। বর্তমানে বাজারে ২ কেজির আটার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়, যা আগে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত এক সপ্তাহে চিনির দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে।

দেশে আমদানি করা অপরিশোধিত চিনি পরিশোধন করে বাজারে ছাড়া হয়। এই পরিশোধন প্রক্রিয়ায় শিল্পকারখানায় গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়। এতে সরবরাহেও টান লাগে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়।

একসময় দেশের ছয়টি শিল্প গ্রুপ চিনি প্রক্রিয়াজাতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে রয়েছে তিনটি। এগুলো হলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), সিটি গ্রুপ ও আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি। এই তিন গ্রুপের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারের সরবরাহব্যবস্থায়। গ্যাস–সংকট দীর্ঘ হলে চিনির বাজারে তার প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। দেশে খোলা চিনির বড় অংশ এই বাজার থেকে সরবরাহ করা হয়। খাতুনগঞ্জে গত সপ্তাহে খোলা চিনির দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার থেকে দাম বেড়ে এখন ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারেও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।

চট্টগ্রামের অন্তত সাতটি খুচরা বাজারের আশপাশের মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। দোকানিরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে খোলা চিনির দাম বাড়লেও চট্টগ্রামে এখনো প্যাকেটজাত চিনির দাম বাড়েনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিনির ব্যবহার কমলেও বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি চায়ের সঙ্গে চিনির চাহিদা রয়েছে।

এদিকে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ে ভোক্তার ওপর। চট্টগ্রামের গোলপাহাড় এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা বলেন, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ টাকা দরে কিনেছিলাম। এখন দাম ১১০ টাকা।

চিনির পাশাপাশি গ্যাস–সংকটে গম, সয়াবিনবীজ, অপরিশোধিত ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের বাজারে তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এখনো দামে প্রভাব পড়েনি। গম, আটা ও ময়দার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মীর মোহাম্মদ সাজ্জাদ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস–সংকটের কারণে চিনি পরিশোধন কারখানাগুলো থেকে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে খোলা চিনির দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে প্যাকেটজাত চিনির দামে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ