রাড্ডায় হামলা–মিষ্টির পদত্যাগ, বিএনপির কঠোরতা কত দূর যাবে
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪২ AM

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের পর বিএনপি অবশেষে শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বিভিন্ন সংগঠনের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ—একসঙ্গে এসব পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোর সিদ্ধান্ত দলের অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা। আশা করা যায়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যাঁরা দখল, হামলা বা চাঁদাবাজিতে জড়ান, তাঁরা সতর্ক হবেন। কিন্তু সেই বার্তা কত দিন কার্যকর থাকবে? ব্যবস্থা কত দূর যাবে, এর ধারাবাহিকতাই-বা কতটা থাকবে? তবে আমরা আশা করব, সরকার ও দলের এই শক্ত অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
প্রশ্নগুলো উঠছে কারণ, রাড্ডার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম এসেছে। ফলে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তদন্ত থেমে না যাওয়াও জরুরি। মিরপুরের কঠোরতার প্রভাব অন্য এলাকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপরও পড়তে হবে।
এখানে অতীতের দিকে তাকানো যায়। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরপর ছাত্রদল বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, টেন্ডারবাজির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল; যার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সপ্তাহের মাথায় ১৯ নভেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম স্থগিত করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
পরের মাসে, ২৬ ডিসেম্বর ভোরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যারা সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করছে বা করবে, তাদের জন্য পিন্টুর গ্রেপ্তার একটা মেসেজ।’
গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিলামের কাগজপত্র ছিনতাইচেষ্টার। অবশ্য পিন্টু ২৯ দিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পান। ২০০৫ সালে সেই মামলাও সরকার প্রত্যাহার করে নেয়। কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর তার ধারাবাহিকতা কেন জরুরি, এ ঘটনাই তার একটি উদাহরণ।
এবার তাই বিএনপির পরীক্ষা কয়েকটি সিদ্ধান্তের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। বহিষ্কৃতরা আগের মতো প্রভাব ধরে রাখতে পারবেন কি না, নতুন কমিটিতে বিতর্কিতদের আশ্রয়দাতারা জায়গা পাবেন কি না এবং অন্য এলাকার একই ধরনের অভিযোগেও সমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এসব দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এখন দলীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজন অপরাধের তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার। রাড্ডার স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করাও সেই দায়িত্বের অংশ। অপরাধের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবার দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।
দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত কেবল বহিষ্কারের সংখ্যা দিয়ে হিসাব করবে না; নিজের বাড়ি, ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দিয়ে বিচার করবে। মিরপুরের সিদ্ধান্ত তখনই আস্থা ফেরাবে, যখন অন্য এলাকার মানুষও তার সুফল পাবেন।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা, নিঃশর্ত মুক্তি চায় জামায়াত
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৪৭ PM · প্রথম আলো
পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:২০ PM · বাংলা ট্রিবিউন
সরকারি দায়িত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, মাঠের শূন্যতা পূরণ হবে কীভাবে
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৫ AM · বাংলা ট্রিবিউন
