পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ডের হরিজন কলোনি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি ১০৮ নাগরিকের
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:২০ PM

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেনিয়ালস কোয়ার্টারে (সুইপার কলোনি) বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায় ও কর্মচারীদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১০৮ জন নাগরিক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই কলোনিতে বসবাসকারী ৬০টি পরিবারের জন্য বিকল্প আবাসন বা পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা না করে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে নোটিশ কার্যকর স্থগিত এবং স্থায়ী ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ভবন অপসারণ বন্ধের দাবি জানান।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ১৮৫৮ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য ও তাদের পরিবারগুলো ওই মেনিয়ালস কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে ৬০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মুসলিম পরিবার। এসব পরিবারের ৪২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছে। বাসিন্দাদের মধ্যে ৩১ জন সরকারি স্থায়ী চাকরিজীবী, ২৮ জন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং ১৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ৩০ জুলাই একটি প্রশাসনিক নোটিশ দিয়ে ৩০ আগস্টের মধ্যে কলোনির সব বাসিন্দাকে কোয়ার্টার খালি করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। ৩১ আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ সব মৌলিক ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবন অপসারণের কথা জানানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কথা বলা হলেও বাসিন্দাদের জন্য কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, হরিজন সম্প্রদায় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সেবার সঙ্গে যুক্ত। করোনা মহামারির মতো সংকটকালেও তারা জীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এখন বিকল্প আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া তাদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের উদ্যোগ বাংলাদেশের সংবিধান, সুপ্রিম কোর্টের নজির এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী। দীর্ঘদিনের অনুমোদিত বসবাস, হাসপাতালের প্রতি প্রজন্মগত সেবা এবং কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতির কারণে বাসিন্দাদের ন্যায়সংগত প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী এসব মানুষকে সাধারণ অবৈধ দখলদার হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের দীর্ঘদিনের সেবা, সামাজিক অবস্থান, বিকল্প আবাসনের অনুপস্থিতি ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদলিপিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের উচ্ছেদ নোটিশ অবিলম্বে স্থগিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বা ভবন অপসারণ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এতে স্থানীয় হরিজন প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নিত্রা, গবেষক মেঘনা গুহঠাকুরতা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, খুশী কবীর, শিরীন পারভিন হক, মুক্তাশ্রী চাকমা, পাভেল পার্থ, সায়দিয়া গুলরুখ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাকির হোসেন, ড. স্বপন আদনান, সুরেশ বাসফোরসহ বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের ১০৮ জন নাগরিক।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা, নিঃশর্ত মুক্তি চায় জামায়াত
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৪৭ PM · প্রথম আলো
রাড্ডায় হামলা–মিষ্টির পদত্যাগ, বিএনপির কঠোরতা কত দূর যাবে
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪২ AM · প্রথম আলো
সরকারি দায়িত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, মাঠের শূন্যতা পূরণ হবে কীভাবে
২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৫ AM · বাংলা ট্রিবিউন
