শাহজাদপুর সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৪৫ PM

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।

৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।

বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।

এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’

যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’।

এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।

ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’

ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ