শাহজাদপুর সংবাদ

মাত্র দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে যে ক্ষতির মুখে পড়বে পৃথিবী

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১৪ AM

মাত্র দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে যে ক্ষতির মুখে পড়বে পৃথিবী

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সংকট এক নতুন মাত্রায় এসে পৌঁছেছে। দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের উষ্ণতা বৃদ্ধির সীমা খুব শিগগির পেরিয়ে যেতে পারে পৃথিবী। এই সীমা অতিক্রম করলে প্রকৃতির অনেক ক্ষতি আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির নতুন প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ‘লিমিটিং ওভারশুট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করতে পারে। উষ্ণতা বাড়ার ফলে তখন চরম আবহাওয়া ঘন ঘন আঘাত হানবে। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। আর তাই তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘ মেয়াদে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ভারতের প্রধান বালাকৃষ্ণা পিসুপাতি জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়াকে একাধিক জটিল সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জনসংখ্যার চাপ ও আয়বৈষম্যের কারণে এই অঞ্চল বিপদে রয়েছে। প্রযুক্তিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অসমতা বজায় রয়েছে। ঐতিহাসিক কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকা কম। কিন্তু এর খেসারত এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই বেশি দিতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই বহুপক্ষীয় আলোচনা ও ফ্রেমওয়ার্কের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত কাঠামোর মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জলবায়ুসংক্রান্ত কয়েকটি সংকট দ্রুত এগিয়ে আসছে। কোনো কারণে উষ্ণতা কমানোর সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রায় তার প্রভাব দেখা গেলেও হিমবাহের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তাপমাত্রা কমে গেলেও গলে যাওয়া হিমবাহ সহজে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মাত্রা আরও দ্রুত কাজ করে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে ফেরানো সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের ভাষ্যে, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সবচেয়ে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কোনো প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে গেলে তা প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনা যায় না। বিভিন্ন দেশের কৃষকদের জীবনযাত্রার ওপর এর বড় প্রভাব পড়েছে। খরা ও বন্যার কারণে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে জীবন–জীবিকা বদল করছে। দশকের পর দশক ধরে চেষ্টা করেও এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীরা ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়ের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বলা হয়েছে, যেসব দেশ অতীতে বেশি কার্বন নিঃসরণ করেছে, তাদের দায়িত্বও বেশি। জলবায়ুসংকট এখন কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকা ও উন্নয়নের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ