শাহজাদপুর সংবাদ

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:২০ AM

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন ইভেন্টে প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে হাজির হতে যাচ্ছেন জন টার্নাস। এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম টিম কুক অ্যাপলের নতুন পণ্য উন্মোচনের অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন না।

হার্ডওয়্যার প্রকৌশলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা টার্নাসের কাছ থেকে অ্যাপলের নতুন যুগের উদ্ভাবনের প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নতুন পণ্য, মেমোরির সংকট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক চাপ সামলানো হবে তার বড় চ্যালেঞ্জ।

গত দুই বছর ধরে এআই কৌশল নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে অ্যাপল। নতুন সংস্করণের সিরি চালুর পরিকল্পনাও গত বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। এটি চলতি বছরেই চালু হওয়ার কথা। প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিপওয়াটার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জিন মুনস্টারের মতে, সিরি নিয়ে অ্যাপলের বড় সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

নতুন সিরি আইফোনের টেক্সট মেসেজ, ছবি ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপে কাজ সম্পন্ন করা এবং পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতাও থাকবে।

এআই প্রতিযোগিতায় গুগলের জেমিনির সঙ্গে পাল্লা দিতে এই উদ্যোগ অ্যাপলকে সহায়তা করতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) জ্যেষ্ঠ পরিচালক নাবিলা পোপালের মতে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তায় অ্যাপলের ঐতিহ্যগত গুরুত্ব এবং আইওএসের ক্যামেরা ও মেসেজের মতো ফিচারে সরাসরি এআই যুক্ত করার সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে দিতে পারে।

টার্নাসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা সম্ভবত নতুন কোনো জনপ্রিয় পণ্য বাজারে আনা। টিম কুকের নেতৃত্বে আইফোনকে অ্যাপলের কয়েক শ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল কার্ড, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের মতো পণ্য ও সেবা যুক্ত হয়েছে।

এখন বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকেরা টার্নাসের নেতৃত্বে নতুন পণ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখতে চান। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ফোল্ডেবল আইফোন।

আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারের ৪০ শতাংশ দখল করতে পারে অ্যাপল। এ ক্ষেত্রে স্যামসাং ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ের তুলনায় অ্যাপল কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে চলমান মেমোরি সংকটও টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ডেটা সেন্টারে মেমোরির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অ্যাপল, নিনটেন্ডো ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে অ্যাপল আইপ্যাড, ম্যাকসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ালেও আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রাখে।

জুলাইয়ে সিইও হিসেবে নিজের শেষ আয়ের বিবরণী প্রকাশের সময় টিম কুক মেমোরির দামের ব্যাপক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটসের মেমোরি কভারেজ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়ার্ডের মতে, মুনাফার হার ধরে রাখতে আইফোনের দাম প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়াতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১ হাজার বা ১ হাজার ২০০ ডলারের আইফোনের বদলে ১ হাজার ৫০০ ডলারের আইফোনের কথা ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিগ টেকবিরোধী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপও অ্যাপলের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইইউর নিয়ম মেনে অ্যাপল সম্প্রতি অ্যাপ স্টোরের ব্যবসায়িক শর্তে পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন সিরি আইফোন ও আইপ্যাডে চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপ দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ইউরোপীয় কমিশন অ্যাপল ও গুগলকে তাদের অপারেটিং সিস্টেমে তৃতীয় পক্ষের এআই সহকারীদের আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। তবে অ্যাপল ও গুগলের দাবি, এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরাও ফোন ও কম্পিউটারে থাকা তথ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ এআই এজেন্টদের দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে টার্নাসকে টিম কুকের সময়ে গড়ে ওঠা অ্যাপলের বিশাল ও লাভজনক ব্যবসা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিগত চমক তৈরি করতে হবে। ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষক ওয়ামসি মোহনের মতে, শুধু ধারাবাহিক উন্নতি দিয়ে এখন আর অ্যাপলের মতো বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নাও হতে পারে। টার্নাসের মূল চ্যালেঞ্জ হবে কুকের গড়ে তোলা লাভজনক কাঠামো ধরে রেখে অ্যাপলের প্রযুক্তিগত বিস্ময়ের অনুভূতি ফিরিয়ে আনা।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ