শাহজাদপুর সংবাদ

দীর্ঘ আট বছরের যাত্রা শেষে বুধ গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছেছে মহাকাশযান

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৮:০০ AM

দীর্ঘ আট বছরের যাত্রা শেষে বুধ গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছেছে মহাকাশযান

সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট এবং কম জানাশোনা গ্রহ বুধ। সূর্যের সবচেয়ে কাছের এই গ্রহে পৌঁছানো বিজ্ঞানীদের জন্য সব সময় কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে এখন বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) দুটি মহাকাশযান।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বেপিকলোম্বো মিশন মহাশূন্যে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ আট বছর ধরে শত শত কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে মহাকাশযান দুটি। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পৃথিবী, শুক্র ও বুধ গ্রহের মহাকর্ষ বলকে কাজে লাগিয়ে একাধিকবার মহাকাশযান দুটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্প্রতি মহাকাশযানগুলোর প্রোপালশন মডিউল সফলভাবে আলাদা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ নভেম্বর মহাকাশযান দুটি বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের খুব কাছে হওয়ায় বুধ গ্রহে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। পৃথিবী থেকে কোনো মহাকাশযান পাঠালে তাকে বিপুল পরিমাণ গতি কমাতে হয়। সূর্যের টানে নিচের দিকে পড়ার সময় কক্ষপথে প্রবেশ করা বেশ জটিল। এই দীর্ঘ যাত্রায় মোট নয়টি গ্রহের ফ্লাইবাই সম্পন্ন করা হয়েছে। সৌর-বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবহার করে মহাকাশযান দুটির গতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এই মিশনে দুটি ভিন্ন সায়েন্টিফিক অরবিটার বা বৈজ্ঞানিক যান একত্রে ভ্রমণ করছে। এর মধ্যে একটি হলো ইউরোপীয় সংস্থার মারকিউরি প্ল্যানেটারি অরবিটার। অন্যটি হলো জাপানের মারকিউরি ম্যাগনেটোস্ফেরিক অরবিটার বা মিও। বুধের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর এ দুটি যান একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যাবে।

বুধ গ্রহের বিভিন্ন দিক নিয়ে এ দুটি যান আলাদাভাবে গবেষণা করবে। এমটিও গ্রহের পৃষ্ঠ অভ্যন্তরীণ গঠন ও উপাদান নিয়ে কাজ করবে। অন্যদিকে মিও গ্রহের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান চালাবে। গ্রহের পাতলা বায়ুমণ্ডল এবং বিশাল লোহার অভ্যন্তরীণ গঠন খতিয়ে দেখা হবে। বুধের মেরু অঞ্চলের লাভা গহ্বর বা ক্রেটার বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। স্থায়ীভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এসব এলাকায় জলীয় বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে অন্য কোনো মিশন এত নিখুঁতভাবে এই অঞ্চলগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি। গ্রহের রহস্যময় পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য এবং চৌম্বকক্ষেত্র থাকার কারণ খোঁজা হবে। সূর্যের এত কাছাকাছি কীভাবে এই গ্রহের সৃষ্টি হলো, তা–ও উদ্‌ঘাটন করা হবে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ডিসেম্বর মাসে দুটি মহাকাশযান পুরোপুরি আলাদা হয়ে যাবে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এমটিও তার চূড়ান্ত কক্ষপথে পৌঁছে যাবে। এরপর আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে বুধ গ্রহে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ