শাহজাদপুর সংবাদ

মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন

২ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০০ AM

মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন

খন্দকের যুদ্ধ চলছে। শত্রুর একটি তির এসে বিঁধল সাদ ইবনে মুয়াজের (রা.) হাতের শিরায়, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আনসার সাহাবিদের অন্যতম নেতা তিনি। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিলেন, ‘তাঁকে এমন এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন।’

সেই নারীর নাম রুফাইদা। হাদিসের বর্ণনা তাঁকে ইতিহাসে এমন এক জায়গা দিয়েছে, যেখানে আধুনিক নার্সিংয়ের ইতিহাসেও তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হয়।

তাঁর নাম রুফাইদা আল-আসলামিয়া। ইবনে সাদ তাঁর আরেক নাম বলেছেন কুআইবা বিনতে সাদ আল-আসলামিয়া। (আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৮/২৯১, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

‘আল-আসলামিয়া’ নিসবত অনুযায়ী তিনি বনু আসলাম গোত্রের নারী। তবে আধুনিক অনেক লেখায় তাঁকে খাজরাজ গোত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ইবনে হাজার লিখেছেন, রুফাইদা হিজরতের পর নবীজির কাছে বাইআত গ্রহণ করেন। (আল-আসকালানি, তাহজিবুত তাহজিব, ১২/৪২৬, দাইরাতুল মাআরিফ আন-নিজামিয়্যাহ, হায়দরাবাদ, ১৯০৭)

এ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মদিনায় নবীজির আগমনের আগে ইসলাম গ্রহণকারী নন। তাঁর পিতা সাদ আল-আসলামি চিকিৎসক ছিলেন এবং কন্যাকে চিকিৎসা শিখিয়েছেন।

রুফাইদার একটি তাঁবু ছিল মসজিদে নববির চত্বরে। সেখানে তিনি আহত ও অসুস্থদের সেবা করতেন।

খন্দকের যুদ্ধে সাদ ইবনে মুয়াজের হাতের শিরায় তির লাগলে বলা হলো, তাঁকে রুফাইদা নামের এক নারীর কাছে নিয়ে যাও, যিনি আহতদের চিকিৎসা করেন। (ইমাম বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১১২৯)

সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) এই তাঁবুতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মহানবী (সা.) তাঁকে দেখতে আসতেন। (আল-ওয়াকিদি, কিতাবুল মাগাজি, ২/৫১০, দারুল আলামি, বৈরুত, ১৯৮৯)

রুফাইদা খায়বারের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ গনিমতের অংশ পেয়েছিলেন। যুদ্ধের বাইরেও তিনি অসুস্থ, অসহায় ও অনাথদের পাশে ছিলেন।

রুফাইদা মুসলিম বিশ্বে ‘প্রথম নার্স’ হিসেবে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে নব্বইয়ের দশক থেকে নার্সিং-সাহিত্যে এ পরিচয় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর তাঁবুকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল বলা হয়।

কেউ কেউ বলেন, তিনি নারীদের নার্সিং প্রশিক্ষণ দিতেন এবং চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দিতেন। যদিও নবীজির যুগের পেশাদার ‘নার্সিং’ বলতে আজকের অর্থে কী বোঝায়, সেটি নিশ্চিত নয়। তবে ওমর হাসান কাসুলে (২০০৩) বা আর. জানের (১৯৯৬) গবেষণায় তার জীবনের অনেক অনালোচিত অধ্যায় উঠে এসেছে।

তারা দেখান, প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে কীভাবে একজন নারী প্রকাশ্যে ও স্বীকৃতিসহ চিকিৎসাসেবা দিতেন, আর নবীজি (সা.) নিজে সেখানে রোগী পাঠাতেন।

ড. সাজেদা হোমায়রা : আলেমা ও গ্রন্থপ্রণেতা

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ

মসজিদের পাশে যে নারী আহতদের সেবা করতেন | শাহজাদপুর সংবাদ