বিলিনের পথে সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিল
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৫:৩১ AM

দীর্ঘ ৬ বছর পর সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিল চালু হতে যাচ্ছে। তবে সেই জুট মিল আর থাকছে না নতুন নামে সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড নামে চালু হতে যাচ্ছে। সদ্য ৩০ বছরের জন্য ইজারা নেয় প্রাণ আরএফএল । জুট মিলের যন্ত্রাংশ খোয়া যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মধ্যে ৩০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড চালু হতে যাচ্ছে এই মিল। এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই মিলে গার্মেন্ট পণ্য উৎপাদন করবে প্রাণ আরএফএল এই টুকু জানি। এসময় জুট মিলের যন্ত্রাংশের কি হবে, এখানে জুট পন্য উৎপাদন হবে কিনা, এবিষয়ে তিনি আরও জানান, এটা বিজেএমসির সিদ্ধান্ত, কি হবে আমি জানি না।
এবিষয়ে প্রাণ আরএফএল লিমিটেড এর মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমজান আলী সৈকত জানান , আমরা ইতিমধ্যে গ্যামেন্স পন্য উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা জুট মিলের যন্ত্রাংশ অপসারণের জন্য ইতিমধ্যে তাগাদা দিয়েছি। শুনছি বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যন্ত্রাংশ নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দ্রুত আমাদের মিল পরিস্কার করে দিলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে।
প্রাণ আরএফএল কর্তৃপক্ষের তথ্যে জানা যায়, তৈরি পোশাক (জগএ), টেক্সটাইল ও অন্যান্য বহুমুখী পণ্যের পাশাপাশি পাটজাত পণ্যের পরিকল্পনা করছে প্রাণ আরএফএল। সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিল ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১১ সালে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে মিল চালুর তিন অর্থ বছরে প্রায় ৯ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখে। এরপরই এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের নানা রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লোকসান গুনতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কওমি জুট মিলের এক সময়ের কর্মচাঞ্চল্য ভবনগুলো নীরবভাবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে।
মিলের হাজার হাজার মেশিন পড়ে আছে, পার্স উৎপাদনে নিজস্ব ঢালাই কারখানা, পনেরটি পাটের গুদাম তালাবদ্ধ, পাট পরিবহন ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে রেল লাইন , আবাসিক ভবন এবং জেনারেটর ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার না থাকায় হাজার হাজার কোটি টাকার মিলটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সর্বস্তরে পলিথিন নিষিদ্ধ করলেও পাটের তৈরি বিকল্প ব্যবহার কাপড়, ব্যাগ তৈরির একসময়ের জনপ্রিয় কারখানাটি অদৃশ্য কারণে ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য বলছে, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিল ২০১১ সালে নতুন নামে (জাতীয় জুট মিল) পুনঃরায় চালু হয়। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে মিল চালু তিন অর্থ বছরেই ৯ কোটি টাকা আয় করে। দেশের উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করে। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ২০২০ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় জুট মিল শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আনোয়ার জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। সরকারের টেন্ডার জটিলতায় পাটের মৌসুমে পাট কিনতে পারে না। কৃষকের কাছ থেকে পাট বেল্ট আকারে কেনার নানা শর্ত পূরণ করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে তিন মাস, এসময়ের মধ্যে পাটের মৌসুম শেষ। ফলে বেশি দামে নিম্নমানের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পাট পাওয়া যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠান এক সময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পড়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হলে লোকসানের জন্য কারা দায়ী, তিনি জানান, যারা এই জাতীয় মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে চায়। একটি মহল সারা দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে সরকারি এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে। অথচ সরকার থেকে প্রতি মাসে ১৭২ জন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি বেতন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৬০ সালে ৩৫০ একর জায়গার উপরে সিরাজগঞ্জ কওমি জুট মিল প্রতিষ্ঠা চালু হয়। এখানে ৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির হয়। শুরুর দিকে কাপড়, ব্যাগ এবং দড়ি তৈরি হতো। উদ্দেশ্যে ছিল, জেলার পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কৃষকের মাঝে পাট চাষে ব্যাপক আগ্রহ বাড়তে থাকে, দারিদ্র্য মানুষ পাট চাষ করে স্বাবলম্বী হতে থাকে। একটা সময় মিলের ছিল ২৫২ হেসিয়ান, ২৪৮ সেকিং, ৩২ সিবিসি ও ৫৮০ স্পিন্ডেল লুম। এই মিলে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল গড়ে এর মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ১০.৫৬ মেট্রিক টন হেসিয়ান, ৩৪.৫৬ মেট্রিক টন সেকিং ও ২.৮৮ মেট্রিক টন সিবিসি লুম। এই মিল বন্ধের ফলে সিরাজগঞ্জ শহরে রিকশা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শহরে যানযটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দেওয়ায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ […]
শেখ ইলিয়াস মিথুন, মাগুরা: মাগুরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা অনামিকা দাস (৩৩) মারা গেছেন। বুধবার দুপুর ১টার দিকে মৃত অবস্থায় তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে […]
ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী বন্ধুর স্ত্রীর সাথে পরকিযা প্রেমে সাড়া না দেওয়ায় নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের কাজিরচর গ্রামের মো. মাহফুজকে (২৫) হত্যা করা হয়েছে। […]
সূত্র: Daily Nabochatona
সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়াই ২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ভাড়া স্থাপনায় যেনতেন পাঠদান
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৪১ AM · প্রথম আলো
সিরাজগঞ্জে পাখির অকৃত্রিম বন্ধু কাঁচামাল ব্যবসায়ী বুদ্ধ
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৫:৩০ AM · Daily Nabochatona
সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে মরিচ চাষে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০০ AM · Alokito Bangladesh
সিরাজগঞ্জে দুই মাসে ৫৪ প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৮:৫৩ PM · karatoa.com.bd
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব সরকারের
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৭:১৩ PM · প্রথম আলো
