শাহজাদপুর সংবাদ

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০৯ PM

বন্যা ও ভূমিধসে ভারতে ৫৬, নেপালে ১৪ জনের মৃত্যু

ভারতে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী নেপালে একই দুর্যোগে ১৪ জন মারা গেছেন। দেশটিতে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল রোববার কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, আবারও নেপালে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। গতকাল উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালানোর পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ করছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের হিসাব করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

ভারতে ৫৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর।

নেপালের ৭৭ জেলার মধ্যে ৪৯টিতে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির অর্ধেকের বেশি জেলা বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রধান নদী ও উপনদীগুলোর পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাত জানিয়েছেন, গত মাসের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাকে সতর্ক থাকতে হবে। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ। তবে বর্তমানে রাসুয়া ও নুয়াকোটকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

নেপালের মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে একটি ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থাপনা ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের পানিসম্পদ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতে কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, সাতটি প্রদেশের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী, নর্মদাসহ বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা।

এদিকে নেপালে পৃথক একটি ঘটনায় উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল বেজক্যাম্প তুষারধসে চাপা পড়ে। এতে স্থানীয় ১০ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পর্বতারোহণ–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। তুষারধসের সময় সেখানে কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ