প্রেসিডেন্ট সিকে প্রথা ভেঙে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প, সম্পর্কের বরফ কি গলবে
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১৪ AM

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছালে সি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটনে এ সফরকে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।
প্রায় তিন বছর পর সি চিন পিং ওয়াশিংটন সফর করছেন। তাঁর এ সফর থেকে বড় কোনো অর্জন উঠে আসবে—বিশ্লেষকেরা তা মনে করছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১১ মাস ধরে চলা বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এ সমঝোতার মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সি চিন পিংকে উদ্ধৃত করে দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।’ বিবৃতিতে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে উল্লেখ নেই।
সি চিন পিং ওয়াশিংটনে নামার পর উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের স্ত্রীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। তাঁরা দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলেন, ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ডে বাদ্য বাজছিল। কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়। আকাশে উড়ে যায় বি-১ বোমারু বিমান।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সি-স্প্যানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর পর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানালেন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানান।
চীন–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমিত পরিসরে হলেও একটি বাণিজ্যচুক্তি বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারে। ২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় বিশ্বের এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক তিন অঙ্কে পৌঁছেছিল।
বেসেন্ট ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’ অনুষ্ঠানে জানান, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ নতুন করে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এর মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। বিরল খনিজ আর কম্পিউটার চিপ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ, ইরান–চীন সম্পর্ক এবং তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন—এসব বিষয় নিয়ে দুই দেশ পরস্পরের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
দুই পরাশক্তির প্রেসিডেন্টরা এমন এক সময় বৈঠকে বসছেন, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপকভাবে অসন্তোষের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে চীনেও নানা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যদিও দেশটির বাণিজ্য খাত এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা চীনকে তাঁদের দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। কাজেই চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের বিষয়ে জানাশোনা আছে—এমন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সি তাইওয়ানের ওপর চীনা দাবির বিষয়টি নতুন করে তুলে ধরতে পারেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে সির আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প চীনের ওপর পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর রাখতে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে পারেন।
ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান অচলাবস্থা কাটাতে চীন ট্রাম্পকে সহযোগিতা করবে কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া দেশ দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা করতে পারে। এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
গাজার পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:১৫ PM · প্রথম আলো
পশ্চিমবঙ্গে ৩ লাখের বেশি বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস, রোলার চালালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০০ AM · প্রথম আলো
কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প, জাতিসংঘে ওয়াকআউট প্রতিনিধি দলের
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৪৮ PM · বাংলা ট্রিবিউন
জার্মানিতে একটি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৪১ PM · প্রথম আলো
