প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর, কী উদ্দেশ্যে এই সফর
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪৩ AM

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। দলের নেতারা বলছেন, এটি দাওয়াতি সফর। তবে এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দলের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগও দেখছেন তাঁরা। অন্যদিকে কয়েক মাস আগে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করীমের ‘কাফেলা আমেরিকার দিকে’ বক্তব্যের সঙ্গে এই সফরের যোগসূত্র টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।
চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত রেজাউল করীম ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। দলীয় সূত্র বলছে, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ১৪ দিনের এই সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় আলোচনা করছেন। ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে দলের আমিরের চেয়ে চরমোনাই পীর হিসেবে রেজাউল করীমের পরিচিতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সুফিবাদের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের আমন্ত্রণে তিনি ধর্মীয় আলোচনা ও দাওয়াতি কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন।
দলটির নেতারা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামী আন্দোলনের পরিচিতি বাড়তে পারে। তাঁদের ভাষ্য, বাংলাদেশের বাইরে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী পরিচিতি পেলেও ইসলামী আন্দোলন তেমন পরিচিতি পায়নি। এই সফর সেই ঘাটতি কাটানোর পাশাপাশি সুফি ইসলামের চর্চা ও দর্শন তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। দেশটিতে এটি তাঁর প্রথম সফর। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের অনুসারীদের পাশাপাশি অন্য দলের লোকজনও তাঁর ধর্মীয় আলোচনা শুনতে আসছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে রেজাউল করীম সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ সফর করেছেন।
ফয়জুল করীমের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা
চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে সমালোচনায় উঠে এসেছে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের একটি বক্তব্য। গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি ইসলামের পক্ষে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রসঙ্গ টানেন।
ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স তৈরির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন জোট করেছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন চরমোনাই পীর।
ফয়জুল করীম আরও বলেন, ‘আমরা চলতেছিলাম মদিনার দিকে। কিন্তু স্টিয়ারিং ছিনতাই হয়ে গেছে, ডাকাতি হয়ে গেছে। চলতেছিলাম কাফেলা মদিনার দিকে, হঠাৎ দেখি কাফেলা চলতেছে আমেরিকার দিকে। মদিনাওয়ালারা আমেরিকা যেতে পারে না।’
চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ওই বক্তব্যের সঙ্গে সফরের যোগসূত্র টেনে সমালোচনা করছেন। বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমদ ১৪ অক্টোবর তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘চরমোনাইয়ের পীর সাহেব কি সত্যিই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন? তাহলে তিনি কি আমেরিকামুখী হয়ে গেছেন? জামায়াতের বিরুদ্ধে তো তিনি এমন অভিযোগই করেন।’
তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা এ সমালোচনাকে যথাযথ মনে করেন না। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বা সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতি কিংবা রাজনৈতিক আদর্শ গ্রহণ করা নয়।
দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে দেশটির নীতি গ্রহণ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই। সেখানে তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন না; ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
সফরে যেসব কর্মসূচি
১৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রেজাউল করীম। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দারুল উলুম নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট সরদার বরকাতুল্লাহ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফকিহ মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং বায়তুল আমান জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আজির উদ্দিন।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের অনুষ্ঠানে অংশ নেন চরমোনাই পীর। পরদিন পোর্ট ওয়াশিংটন মসজিদে ইসলাহি বয়ান দেন। ১৬ অক্টোবর নিউ জার্সির জালালাবাদ জামে মসজিদে জুমার নামাজের বয়ান ও ইমামতি করেন। একই দিন বায়তুল আমান ইসলামিক সেন্টারে ওয়াজ মাহফিলেও বক্তব্য দেন তিনি।
এ ছাড়া ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদ, ব্রুকলিনের মসজিদ আল-আমান ইনক, জ্যাকসন হাইটসের সানাই পার্টি হল, বাফেলো ও মসজিদে কুবায় ইসলাহি বয়ান এবং বিশেষ ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন মুফতি রেজাউল করীম।
নিউইয়র্কের দারুল উলুম, মিশিগানের মাসজিদুন নূর এবং আন নূর কালচারাল সেন্টারেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মুফতি রেজাউল করীমের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
আওয়ামী লীগ-জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগ: কী বলছেন রাজনীতিকরা
২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:২১ PM · বাংলা ট্রিবিউন
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ বের করতে সরকার ব্যর্থ: সিপিবি
২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:৪৮ PM · বাংলা ট্রিবিউন
