শাহজাদপুর সংবাদ

পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:৩০ PM

পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

পৃথিবীতে মানব সভ্যতার টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক ৯টি প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সাতটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা পৃথিবীর ৯টি প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি বা গ্রহীয় সীমা অতিক্রম করেছে। জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, মিঠাপানি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান এই চাপ অপরিবর্তনীয় পরিবেশের পরিবর্তনের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সতর্কও করেছেন তারা। পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের প্ল্যানেটারি বাউন্ডারিজ সায়েন্স ল্যাবের অধীন ৬০ জনের বেশি বিজ্ঞানী যৌথ উদ্যোগে ‘প্ল্যানেটারি হেলথ চেক ২০২৬’ শীর্ষক এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের অখণ্ডতা বা বায়োস্ফিয়ার ইন্টেগ্রিটি, ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন, মিঠা পানির পরিবর্তন, বায়োজিওকেমিক্যাল প্রবাহ, কৃত্রিম রাসায়নিক ও প্লাস্টিক এবং মহাসাগরের অম্লকরণ ইতোমধ্যে পৃথিবীর প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি বা গ্রহীয় সীমা অতিক্রম করেছে। আগের মূল্যায়নে কেবল মহাসাগরের অম্লকরণ এই সীমা অতিক্রম করেছিল। দুটি সীমানা এখনো নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রাটোস্ফিয়ারিক ওজোন ক্ষয় এবং বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসল লোডিং।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওজোনের অবস্থা কিছুটা উন্নতি লাভ করেছে, যদিও কিছু অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসল একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। ২০০৯ সালে মানবজাতির জন্য একটি নিরাপদ পরিচালন স্থান বা সেফ অপারেটিং স্পেস চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে এই প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি বা গ্রহীয় সীমার কাঠামোটি প্রবর্তন করা হয়েছিল। তবে সীমা অতিক্রম করার অর্থ এই নয় যে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় নেমে আসবে, তবে এটি বড় আকারের এবং সম্ভাব্য অপরিবর্তনীয় পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণায় আমাজন রেইনফরেস্টের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমাজন বন প্রচুর পরিমাণে কার্বন সংরক্ষণ করে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, অব্যাহত পরিবেশগত চাপের কারণে এই রেইনফরেস্টের কিছু অংশ একটি বড় সংকটের মুখোমুখি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।

গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়োস্ফিয়ার অবক্ষয়কে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে রাখা হয়েছে, যেখানে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে এখনই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত কমিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি রোধ করা গেলে পৃথিবীকে পুনরায় নিরাপদ সীমার কাছাকাছি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ