পুলিশ থাকার পরেও বিএনপির নেতা–কর্মীরা কেন লাঠিসোঁটা নিয়ে নামছেন, প্রশ্ন এবি পার্টির
৫ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৪:২১ PM

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা শিল্প খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব নয়। দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কী তিনি জানতে চান।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন৷
গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এই মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
এবি পার্টির নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার ও পোশাকশিল্পের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, একই সঙ্গে শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতাও রক্ষা করতে হবে। তবে শ্রমিকের অধিকার ও শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব নয়। দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির খবরও এসেছে। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন, এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একই ভুল আওয়ামী লীগও করেছিল বলে মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠে নামানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে, বলেন তিনি।
মজুরি বোর্ড গঠন ও সরকারের উদ্যোগে বিলম্বের সমালোচনা করে মজিবুর রহমান বলেন, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড গঠন করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। প্রথম সভা হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে থাকার মধ্যে এতদিন কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া সরকারের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খান।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
সিউলে আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশন উদ্বোধন, ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ
৫ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৫:২৮ PM · বাংলা ট্রিবিউন
শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে কার্যকরসহ ১৫ দাবি জামায়াতের
৫ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৫:২৩ PM · প্রথম আলো
‘ফ্যাসিবাদ দমনে জামায়াত-এনসিপিকে কখনোই পাশে পাওয়া যাবে না’
৫ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১২:২৫ PM · বাংলা ট্রিবিউন
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি, দমন-পীড়নের নিন্দা জি এম কাদেরের
৪ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০৮ PM · প্রথম আলো
