নেপোলিয়নের গোপন চিঠির রহস্যভেদ করলো এআই, ২০০ বছর পর কী জানা গেলো?
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০০ AM

১৮০৯ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নির্দেশে লেখা একটি সংকেতলিপির চিঠি দুই শতাধিক বছর অমীমাংসিত থাকার পর মাত্র ছয় ঘণ্টায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে পাঠোদ্ধার হয়েছে। এ সাফল্য ইতিহাসচর্চায় উদীয়মান এ প্রযুক্তির বদলে দেওয়া ভূমিকাকে সামনে এনেছে।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের ২৭ বছর বয়সী এআই প্রকৌশলী কার্টার চার্চ ওপেনএআইয়ের সর্বশেষ মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন এই বার্তার পাঠোদ্ধার করেছেন। দেখা গেছে, এতে ফরাসি ও মিত্র সেনাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। প্রতীক, সংখ্যা ও অক্ষরে লেখা চব্বিশ লাইনের চিঠিটি কয়েক দশক ধরে একটি অনলাইন একাডেমিক আর্কাইভে অবহেলায় পড়ে ছিল।
চার্চ জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে কাজটি করতে কয়েক সপ্তাহ লাগত। তিনি কয়েক সন্ধ্যা সংকেতলিপি নিয়ে কাজ করেন। পরে সমাধান যাচাইয়ে অমীমাংসিত সংকেতলিপির অনলাইন তালিকা পরিচালনাকারী জাপানি পেটেন্ট প্রকৌশলী সাতোশি তোমোকিয়োর সঙ্গে পরামর্শ করেন।
এএফপিকে চার্চ বলেন, এআই মূলত যা দেয়, তা হলো অধ্যবসায়। ফল দেখে তিনি অবিশ্বাস্য তৃপ্তি ও উত্তেজনা অনুভব করেছিলেন বলেও জানান। এ আবিষ্কার ঐতিহাসিক সংকেতবিদ্যায় বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এআই ব্যবস্থা এখন বিশেষ প্রশিক্ষণহীন মানুষকেও এমন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করছে, যেগুলোর জন্য এক সময় ব্যাপক গবেষণা ও শ্রমসাধ্য হাতে-কলমে কাজ দরকার হতো।
অপেশাদার সংকেতবিদদের সহায়ক ওয়েবসাইট ক্রিপ্টিয়ানার পরিচালক তোমোকিয়ো ২০২৬ সালকে ঐতিহাসিক সংকেত ভাঙার সম্ভাব্য মোড় ঘোরানো বছর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তার ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ সংকেতলিপি এআই ব্যবহার করে সমাধান করা হয়েছে।
গবেষকেরা কিছুদিন ধরেই সংকেতবিশ্লেষণের জন্য এআই ব্যবস্থা তৈরি করছেন। তবে উন্নত সাধারণ উদ্দেশ্যের মডেল সবার নাগালে আসায় প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়েছে। চার্চ ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ব্যবহার করেছেন। তবে অন্যরা আগে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের তৈরি মডেলও ব্যবহার করেছেন।
বছরের পর বছর কঠিন সংকেত নিয়ে কাজ করা উৎসাহীদের মধ্যে এ দ্রুত অগ্রগতি মিশ্র অনুভূতিও তৈরি করেছে। তোমোকিয়ো বলেন, দীর্ঘদিনের ধাঁধা সমাধান হওয়ায় তিনি খুশি। তবে এআই এত সহজে এসব কঠিন সমস্যার সমাধান করে ফেলায় তার মনে মিশ্র অনুভূতিও রয়েছে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাওয়ায় আমি উচ্ছ্বসিত, কিন্তু অন্যদিকে আমার মিশ্র অনুভূতি, কারণ এআই এ কঠিন সমস্যাগুলো এত সহজে সমাধান করেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি স্বীকার করেন, সবার আগে সংকেত ভাঙার তৃপ্তি এআই কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আমার নিজেকে অকেজো মনে হচ্ছে। তবে তার মতে, কিছু সংকেতলিপি বছরের পর বছর অমীমাংসিত থাকতে পারে, বিশেষ করে যেখানে এআইকে ধরন শনাক্তে সহায়তা করার মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য কম।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
কখনো বাঁশের ডগায়, কখনো জানালার পাশে মোবাইল রেখে ফ্রিল্যান্সিং করেন কুড়িগ্রামের ফজলে এলাহী
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:৩৭ PM · প্রথম আলো
নাসার স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে অদ্ভুত গর্তের সন্ধান
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:০০ AM · প্রথম আলো
আইবিএমের চাকরি ছেড়ে সাইড বিজনেসে আয় ২৪ কোটি টাকা
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
ভুয়া ফটোকার্ডের ফাঁদে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতিক: সমাধান কোথায়?
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:০০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
চাকরির বাইরেও আয়ের সুযোগ বাড়াতে লিংকডইনে নতুন ফিচার
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:০০ PM · বাংলা ট্রিবিউন
