জুলাইয়ের ধাক্কা সামলে আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রফতানি বাড়লো
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৫৯ PM

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে নতুন অর্থবছরের শুরুটা দুর্বল হলেও আগস্টে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে রফতানি কমলেও আগস্টে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাজ্যে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে রফতানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।
ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রফতানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে যায়। তবে আগস্টে রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
আগস্টের এই প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুষিয়ে দুই মাসের সম্মিলিত রফতানি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরে মাসিক গড় রফতানি ছিল প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।
অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মাসিক গড় রফতানি গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের চেয়ে বেশি। তবে মাত্র দুই মাসের তথ্য দিয়ে পুরো বছরের প্রবণতা নির্ধারণের সুযোগ নেই।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রফতানি গত অর্থবছরের পুরো বছরের রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি ছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে রফতানি হয়েছে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের পুরো বছরের রফতানির ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ ইতোমধ্যে প্রথম দুই মাসে হয়েছে।
তবে পোশাক রফতানিতে মাসভেদে চাহিদা, ক্রয়াদেশ, উৎপাদন সক্ষমতা ও বাজার পরিস্থিতির প্রভাব থাকে। ফলে পরবর্তী মাসগুলোতে এই গতি ধরে রাখা যাবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জুলাইয়ে কিছুটা দুর্বলতার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুই মাসের সম্মিলিত হিসাবও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, মাসভিত্তিক ওঠানামার চেয়ে সামগ্রিক প্রবণতা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দুই মাসের তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অবস্থান এখনো শক্ত রয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।
যুক্তরাজ্যে পোশাক রফতানি বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা রয়েছে। ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি রফতানির ওপর প্রভাব ফেলছে।
এ কারণে একটি মাসের প্রবৃদ্ধি দিয়ে পুরো বছরের বাজার পরিস্থিতি বিচার করার সুযোগ নেই। আগামী কয়েক মাসে রফতানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না, সেটিই হবে মূল বিষয়।
তবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং আগস্টে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ রফতানি বৃদ্ধি জুলাইয়ের দুর্বলতার পর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে গতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
জুলাই–আগস্টে বিদেশি ঋণ এল ২৯ কোটি ডলার, শোধ ৭০ কোটি ডলার
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৪:৪৩ PM · প্রথম আলো
টাকা তুলতে অঙ্গীকারনামা দিয়ে মুনাফা ছাড়তে হচ্ছে আমানতকারীদের
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:০০ AM · প্রথম আলো
চীন-ভারতকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রই হবে বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস?
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৮:০০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি হতে পারে মিউচুয়াল ফান্ড
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:২১ AM · প্রথম আলো
পানামা খাল পার হতে মাশুল এখন ৫০ লাখ ডলার, খরচ বাড়ল কেন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৫:৩১ PM · প্রথম আলো
