শাহজাদপুর সংবাদ

আয়কর রিটার্নে করছাড়ের সময় আর মাত্র চার দিন

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১০ AM

আয়কর রিটার্নে করছাড়ের সময় আর মাত্র চার দিন

বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময় আর মাত্র চার দিন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে চলতি অর্থবছরে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে। এবারের বাজেটে নতুন এই সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

তবে এই করছাড় নিয়ে করদাতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ, সারা বছর ধরে অগ্রিম কর, বেতন থেকে কাটা কর কিংবা বিভিন্ন উৎসে কর পরিশোধ করলেও সেই অর্থের ওপর করছাড় মিলছে না। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যে কর পরিশোধ করতে হবে, মূলত তার ওপরই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

ধরা যাক, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত একজন করদাতার করযোগ্য আয় হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত। বাকি ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে তাঁর করের পরিমাণ দাঁড়াল ৩০ হাজার টাকা।

তিনি যদি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়ে এই ৩০ হাজার টাকা কর পরিশোধ করেন, তাহলে ৫ শতাংশ হারে ১ হাজার ৫০০ টাকা করছাড় পাবেন। ফলে তাঁকে দিতে হবে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।

অর্থাৎ, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যত টাকা কর পরিশোধযোগ্য হবে, এই করছাড় মূলত সেই অর্থের ওপরই হিসাব করা হবে।

নতুন নিয়মের কারণে সারা বছর নিয়মিতভাবে কর পরিশোধ করা করদাতারা কিছুটা অসুবিধায় পড়ছেন। কারণ, রিটার্ন দেওয়ার আগে যেসব কর অগ্রিম বা উৎসে কাটা হয়েছে, সেগুলোর ওপর এই ৫ শতাংশ করছাড় প্রযোজ্য হবে না।

যেমন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাওয়ার সময় যে অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়েছে, ব্যাংকের এফডিআরের মুনাফা তোলার সময় যে উৎসে কর কাটা হয়েছে কিংবা চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা থেকে প্রতি মাসে যে কর কেটে রাখা হয়েছে—এসব অর্থের ওপর করছাড় পাওয়া যাবে না।

ফলে সারা বছর পরিশোধ করা অগ্রিম ও উৎসে কর রিটার্নের মোট কর থেকে বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ কর বাকি থাকবে, করছাড় পাওয়া যাবে শুধু সেই অর্থের ওপর।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, এতে সারা বছর নিয়ম মেনে কর পরিশোধ করা করদাতাদের সঙ্গে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। কারণ, যাঁরা আগেই কর পরিশোধ করেছেন, তাঁদের সেই অর্থের ওপর কোনো করছাড় নেই; অন্যদিকে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কর পরিশোধকারীরা ছাড় পাচ্ছেন।

চলতি অর্থবছরে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করে করছাড় বা অতিরিক্ত করের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা, যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের পুরো অর্থই দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো করছাড় থাকবে না।

জানুয়ারি থেকে মার্চ—তৃতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

এপ্রিল থেকে জুন—চতুর্থ প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর রিটার্ন জমা দিতে গেলে ধীরে ধীরে করের বোঝা বাড়বে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে।

সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ হিসাব এখনো চূড়ান্ত করেনি এনবিআর। গত অর্থবছরে দেশে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা হয়েছিল।

এবারও পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া অন্য সবাইকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। ফলে শেষ সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

করদাতাদের জন্য এখন মূল বিষয় হলো—৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পাওয়া যাবে। এরপর এই সুবিধা আর থাকবে না; বরং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ