শাহজাদপুর সংবাদ

জরুরি বিল দিতে অ্যাপে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণ, পাবেন যেভাবে

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৪১ AM

জরুরি বিল দিতে অ্যাপে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ঋণ, পাবেন যেভাবে

জরুরি সেবার বিল ও নির্ধারিত ফি পরিশোধে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার তাৎক্ষণিক ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না; সরাসরি বিল বা ফি পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। এ-বিষয়ক নীতিমালা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করা এবং গ্রাহকের সাময়িক টাকার সংকট মেটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শুধু জরুরি চাহিদা মেটাতে সেবার বিলের অনুকূলে ৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। মেয়াদ অনুসারে শুধু মাশুল দিতে হবে। ব্যাংকগুলোর অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক এই ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। যে সেবার জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন হবে, শুধু সেই টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। ব্যাংকগুলো ছয় মাস পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম চালাবে। এরপর নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে।

‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এই সুবিধার আওতায় গ্রাহকেরা পরিষেবা বিল, মুঠোফোনে টাকা ভরা (রিচার্জ), শিক্ষা ফি, চিকিৎসা ব্যয়, সঞ্চয়ের কিস্তি, বিমার প্রিমিয়াম, ভ্রমণ খরচ, কর ও সরকারি সেবার ফি পরিশোধের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত ব্যয় বা মাশুলের জন্যও ঋণ পাওয়া যাবে।

ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যক্তিগত হিসাব বা ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হবে না। ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি নির্ধারিত সেবাদাতা বা বিল গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ঋণ গ্রহণের আবেদন থেকে শুরু করে গ্রাহককে যুক্ত করা, অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরত নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

ঋণের মেয়াদ হবে ৭ দিন, ১৫ দিন কিংবা ৩০ দিন। ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মাশুল নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ মাশুল যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১৫ টাকা। ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ৭, ১২ ও ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা ঋণের মাশুল ১০, ২০ ও ৩০ টাকা। ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা।

মেয়াদ অনুসারে ৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা। ৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সর্বোচ্চ মাশুল ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা। ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা। ঋণের মূল টাকা ও মাশুল যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম বা ৩১তম দিনে পুরোপুরি পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহক চাইলে মেয়াদের আগেই মাশুলসহ ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।

কোনো গ্রাহক নিজের ব্যাংকের অ্যাপ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত জরুরি সেবার বিলসহ বিভিন্ন ফি পরিশোধের সময় টাকা না থাকলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তখন ঋণের প্রস্তাব পাবেন। গ্রাহক এতে সম্মতি দিলে অ্যাপে ঋণের আবেদন করা যাবে।

ঋণের আবেদন করার ক্ষেত্রে কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহককে সম্মতি দিতে হবে। গ্রাহকের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করা হবে। গ্রাহকের সম্মতি নেওয়ার আগে ঋণের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদ, মাশুল ও পরিশোধ পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত পরিষ্কারভাবে জানানো হবে।

ব্যাংকগুলো চাইলে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস), অর্থ পরিশোধ সেবাদাতা (পিএসপি), অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান (পিএসও) এবং অন্যান্য আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এই ঋণসেবা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে যুক্ত করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য সব নিয়ম ও নির্দেশনা মানতে হবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের অনুমোদিত নীতিমালার আওতায় বিকল্প ডিজিটাল স্কোরিং পদ্ধতিতে গ্রাহকের ঋণ যোগ্যতা যাচাই করতে পারবে এবং ঝুঁকির ভিত্তিতে ঋণের সীমা নির্ধারণ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশে ইন্টারনেট, মুঠোফোন নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং ও লেনদেনের ব্যবহারও বেড়েছে। এসব সেবা লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি আর্থিক সচেতনতা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নগদ টাকার নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে সাময়িক অর্থসংকটের কারণে অনেক সময় গ্রাহকেরা নিয়মিত প্রয়োজনীয় বিল ও ফি সময়মতো পরিশোধ করতে পারেন না। এতে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া, জরিমানা বা অন্যান্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

এই সমস্যা মোকাবিলা এবং ডিজিটাল লেনদেনের দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক মাশুলভিত্তিক, তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক এখন মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশে ডিজিটাল ঋণে বড় মাত্রা যুক্ত করেছে।

তাৎক্ষণিক ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগের বিষয়ে সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে নতুন এই সেবা বড় প্রভাব ফেলবে। এই সেবা চালু হলে মানুষ জরুরি প্রয়োজন মেটাবে। এই ঋণ নগদে উত্তোলন করা যাবে না, শুধু নির্দিষ্ট সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। ফলে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে ঋণটি। এই সেবার মাধ্যমে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে নতুন যাত্রা শুরু হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ