শাহজাদপুর সংবাদ

চ্যাটজিপিটি ও ক্লড দিয়েই হবে শেয়ার কেনাবেচা 

২৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৪২ AM

চ্যাটজিপিটি ও ক্লড দিয়েই হবে শেয়ার কেনাবেচা 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন আর শুধু তথ্য খোঁজা বা কনটেন্ট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এবার সরাসরি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারের লেনদেনের ক্ষেত্রেও এআই চ্যাটবটকে যুক্ত করছে জার্মান অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্কেলেবল ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকেরা এখন চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ট্রেড পরিচালনা এবং নিজেদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্কেলেবল ক্যাপিটাল এ নতুন সেবার ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইউরোপের কোনো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের সেবা প্রথমবারের মতো চালু করা হলো। এতদিন গ্রাহকেরা মূলত স্কেলেবলের নিজস্ব অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের এআই চ্যাটবট।

নতুন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা এআই চ্যাটবটকে ব্যবহার করে নিজেদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও বিশ্লেষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেড পরিচালনার সুযোগও থাকবে।

অর্থাৎ, একজন বিনিয়োগকারীকে প্রতিটি তথ্য আলাদাভাবে খুঁজে বের করে বিশ্লেষণ করার পরিবর্তে এআইয়ের মাধ্যমে নিজের পোর্টফোলিও সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। বিনিয়োগের বিভিন্ন তথ্য, সম্পদের অবস্থান কিংবা বাজারসংক্রান্ত বিশ্লেষণ বুঝতেও এআই সহায়তা করতে পারবে।

তবে গ্রাহকের আর্থিক তথ্য ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে স্কেলেবল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্কেলেবল ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক পডজুইটের মতে, এ উদ্যোগ মূলত গ্রাহকদের মধ্যে বিনিয়োগে এআই ব্যবহারের অভ্যাস তৈরির একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখনো চ্যাটজিপিটির মতো এআইকে নিজেদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও দেখতে দেওয়া কিংবা সেটি পরিচালনার বিষয়ে দ্বিধায় থাকতে পারেন। তাই সরাসরি নিজস্ব অ্যাপের ভেতরে এআই সুবিধা যুক্ত করার আগে এটি একটি ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে কাজ করবে।

তার ধারণা, ভবিষ্যতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার হলে গড়ে বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন আরও ভালো হতে পারে। তবে এই ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

স্কেলেবল ক্যাপিটালের নতুন উদ্যোগ সেই প্রবণতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে তুলনামূলক সহজভাবে নিজেদের বিনিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এআই দিয়ে বিনিয়োগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। এআইয়ের বিশ্লেষণ সবসময় সঠিক হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বাজারের আচরণও অনেক সময় পূর্বানুমানের বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে এআইয়ের পরামর্শের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কেলেবল ক্যাপিটালের বর্তমানে ১০ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ৬০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি সম্পদ। জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি হলেও ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসেও তাদের সেবা রয়েছে।

জার্মানির ব্যাংকিং খাতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রতিযোগিতা রয়েছে। স্কেলেবলের মতো নতুন প্রজন্মের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক সহজ ও কম খরচে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে।

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হলো এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিচালনার সুবিধা। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ ব্যবস্থায় মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ হবে, স্কেলেবলের এই উদ্যোগকে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ