শাহজাদপুর সংবাদ

ঘুরে দাঁড়িয়েছে নগদ, আয়ের সঙ্গে বেড়েছে মুনাফাও

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৩০ AM

ঘুরে দাঁড়িয়েছে নগদ, আয়ের সঙ্গে বেড়েছে মুনাফাও

মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর লেনদেন ও সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। প্রতিষ্ঠার পর চলতি বছর প্রথমবারের মতো নিট বা প্রকৃত মুনাফারও খাতা খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহক ও লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারকে আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি কর দিচ্ছে নগদ। সেই সঙ্গে ডাক বিভাগের মালিকানা থাকায় সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মুনাফার ভাগ পাচ্ছে।

নগদের আর্থিক তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের যৌথ পরিচালনায় আসার পর থেকে নগদের আর্থিক ভিত্তি ও আর্থিক লেনদেনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি আন্তব্যাংক ও এমএফএস লেনদেনে যুক্ত হয়েছে নগদ। সব মিলিয়ে গত প্রায় দুই বছরে নগদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।

ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁদের অনেকে পালিয়ে যান। তখন অন্তর্বর্তী সরকার নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এখন প্রতিষ্ঠানটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা অনিয়মের কারণে নগদের একাধিক পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা–সম্পর্কিত জটিলতার সুরাহা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগও আসেনি। তবে দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠান নগদে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

২০২৪ সালের আগস্ট ও চলতি বছরের জুলাইয়ের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নগদের সক্রিয় গ্রাহক আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যখন প্রতিষ্ঠানটির আগের পরিচালকেরা পালিয়ে যান, তখন নগদের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ। গত জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখে। সেই হিসাবে প্রায় দুই বছরে গ্রাহক বেড়েছে ৫৪ লাখ। এর মধ্যে গত মে মাসে নগদের সক্রিয় গ্রাহক বেড়ে ২ কোটি ১৫ লাখে উঠেছিল।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে নগদে লেনদেন হয়েছিল ২৩ হাজার ৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার নিচে ছিল। গত জুলাই মাসে সেই লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ২৮১ কোটি টাকায়। তাতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে প্রতিষ্ঠার পর চলতি বছর প্রথমবারের নিট বা প্রকৃত মুনাফা করতে শুরু করেছে নগদ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা করে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, গত এপ্রিলে যা সাড়ে ৪ কোটি টাকায় পৌঁছায়। গত জুনে নিট মুনাফা করেছে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে সার্বিকভাবে দেশের মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা এমএফএস বাজারে নগদের হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৯৪ শতাংশে। আর গত দুই বছরে নগদের ব্যবসায় সার্বিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭১ শতাংশ। যদিও এই সময়ে এমএফএস বাজারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫১ শতাংশ।

নগদের লেনদেন যত বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি বেড়েছে সরকারের রাজস্ব ও মুনাফা। নগদের আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে কর পরিশোধ করেছিল ১৪৬ কোটি টাকা। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮২ কোটি টাকা। আর সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারকে কর দিয়েছে ৩১৩ কোটি টাকা। নগদের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব প্রাপ্য, তার পুরোটাই পরিশোধ করা হচ্ছে। এ কারণে লেনদেনের তুলনায় কর বেশি বেড়েছে।

এমএফএস প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের লাইসেন্সে ব্যবসা পরিচালনা করছে নগদ। এ জন্য ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করে নগদ। বাংলাদেশ ব্যাংক ডাক বিভাগকে এই লাইসেন্স দিয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, নগদের সেবা থেকে অর্জিত আয়ের ৫১ শতাংশ পাবে ডাক বিভাগ। বাকি ৪৯ শতাংশ পাবে নগদ। সে হিসাবে সেবা শুরুর পর থেকে ডাক বিভাগকে মুনাফার ভাগ দিয়ে আসছে নগদ।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মুনাফা বাবদ ডাক বিভাগকে ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা দিয়েছিল নগদ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ডাক বিভাগকে দেয় ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আর সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মুনাফার ভাগ দিয়েছে নগদ।

বর্তমানে নগদে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকর নির্বাহী পরিচালক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা নগদকে নিয়মের মধ্যে এনে আরও গ্রাহক বান্ধব করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এতে প্রতিনিয়ত সক্রিয় গ্রাহক ও লেনদেন বাড়ছে। নগদের ওপর মানুষের আস্থাও গত কয়েক বছরে আরও বেড়েছে।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ