কোরআন পাঠে দুই জগতের ৫ লাভ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ। এটি মানবজাতির জন্য হেদায়েত, রহমত ও জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা। কোরআন পাঠ করা একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর বাণী পাঠ করার পাশাপাশি আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে, ইমানকে দৃঢ় করে এবং সৎপথে চলার অনুপ্রেরণা পায়। কোরআন পাঠের উপকারিতা ও ফজিলত অপরিসীম।
কোরআন পাঠের একটি বিশেষ ফজিলত হলো, এর প্রতিটি অক্ষর পাঠের বিনিময়ে নেকি লাভ হয়। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকি (পুণ্য) রয়েছে। আর একটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)
পবিত্র কোরআন আল্লাহর বাণী। এর আয়াত পাঠ ও অর্থ অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা, রহমত এবং পরকাল সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি গভীর হয়। ফলে ইমান দৃঢ় হয় এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।
কোরআনে আল্লাহ–তায়ালা মুমিনদের গুণ বর্ণনা করে বলেন, ‘আর যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ২)
তাই কোরআন পড়া নিছক মৌখিক ইবাদত নয়; বরং এটি অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা, ইমানি চেতনা জাগ্রত রাখা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষকে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোনটি ন্যায়, কোনটি অন্যায়; কোন পথে রয়েছে কল্যাণ আর কোন পথে রয়েছে ক্ষতি—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান।
পবিত্র কোরআন মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখায় এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের নির্দেশনা দেয়, যা সর্বাধিক সরল।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯)
দুশ্চিন্তা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা মানুষের মনকে প্রায়ই অস্থির করে তোলে। জীবনের নানা সংকটের মধ্যে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ
মন পরিস্থিতিতে আল্লাহর বাণী পাঠ করা মুমিনের অন্তরে সান্ত্বনা জোগায় এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
কোরআন পড়া আল্লাহর স্মরণের অন্যতম মাধ্যম। এর আয়াত মানুষকে আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও প্রজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কোরআনের শিক্ষা থেকে মানুষ বিপদে ধৈর্যধারণ, সুখে কৃতজ্ঞ থাকা এবং কঠিন সময়েও আশাবাদী থাকার অনুপ্রেরণা পায়।
কোরআন পাঠের ফজিলত শুধু দুনিয়ার জীবনে সীমাবদ্ধ নয়; আখেরাতেও রয়েছে এর বিশেষ মর্যাদা। কেয়ামতের কঠিন দিনে মানুষ যখন নিজের মুক্তির উপায় খুঁজবে, তখন কোরআন পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।
এ বিষয়ে রাসুল (সা.) উম্মতকে সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা কোরআন পড়ো। কেননা, কেয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)
তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিয়মিত কোরআন পড়া এবং এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা। পাশাপাশি কোরআনের অর্থ বোঝা, এর নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিজের জীবনকে কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টা করাও জরুরি।
রায়হান আল ইমরান: আলেম, লেখক ও গবেষক
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.) যে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন
৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৩:৪৬ PM · প্রথম আলো
কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ: মহানবী (সা.) কীভাবে কাজের চাপ সামলাতেন
২ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১২ AM · প্রথম আলো
