শাহজাদপুর সংবাদ

কোম্পানির মালিকানা ছাড়া ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হওয়া যাবে না

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৩০ AM

কোম্পানির মালিকানা ছাড়া ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হওয়া যাবে না

এখন থেকে শেয়ারধারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক ছাড়া অন্য কেউ আর ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হতে পারবেন না। অর্থাৎ ব্যাংকের শেয়ারধারী কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে মনোনীত পরিচালক হতে হলে সেই ব্যক্তিকে শেয়ারধারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকের পর্ষদে শেয়ারধারী কোম্পানির মনোনীত পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। গতকাল এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে ব্যাংকের শেয়ারধারণ–সংক্রান্ত নতুন কয়েকটি বিধান যুক্ত করা হয়।

নতুন এসব বিধানে কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যাংকের যত খুশি, তত শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখন থেকে কোনো কোম্পানি তার প্রকৃত সম্পদমূল্যের বেশি মূল্যমানের এক বা একাধিক ব্যাংকের শেয়ার কিনতে বা ধারণ করতে পারবে না।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য ১০০ কোটি টাকা। তাহলে ওই কোম্পানি যদি দেশের এক বা একাধিক ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করে বা নতুন করে কিনতে যায়, তাহলে ব্যাংকের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্যমান ১০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এরই মধ্যে কোনো কোম্পানি উল্লিখিত সীমার বেশি অর্থের ব্যাংক শেয়ার ধারণ করে, তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমার নিচে নামিয়ে আনতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ১০০ কোটি টাকা প্রকৃত সম্পদমূল্যের কোনো কোম্পানির হাতে যদি এক বা একাধিক ব্যাংকের ১৫০ কোটি টাকার মূল্যমানের শেয়ার থাকে, তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ওই কোম্পানিকে ৫০ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ার বিক্রি বা অন্য কোনো উপায়ে কমাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক-কোম্পানির মালিকানার কাঠামোয় স্বচ্ছতা আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মনোনীত পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে এ–সংক্রান্ত নতুন বিধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক কোম্পানি একাধিক ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করে মনোনীত পরিচালক দিয়ে একাধিক ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর ওপর একক কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের এই সিদ্ধান্ত।’

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির নামে ব্যাংকের শেয়ার কিনে ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যাংকে মনোনীত পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয় শেয়ারধারী ওই কোম্পানি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নামে–বেনামে ইসলামী ব্যাংকসহ সাতটি ব্যাংকের শেয়ার কিনে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল নানা অনিয়মের জন্য আলোচিত চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। কাগুজে কোম্পানির নামে শেয়ার কিনে এসব ব্যাংকে এস আলমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পেশাজীবীকে পর্ষদে বসানো হয়েছিল। পরে এসব মনোনীত পরিচালকেরা এস আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে একের পর এক ঋণ অনুমোদন করেন। এখন এসব মনোনীত পরিচালকেরা খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণের কোনো দায়দায়িত্ব নিচ্ছেন না।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক হতে হলে ওই কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। তবে কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে মনোনীত পরিচালকের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা নেই। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক যে বিধান করেছে, তাতে কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যাংকের মনোনীত পরিচালক হতে হলে আগে ওই ব্যক্তিকে শেয়ারধারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। কারণ, এসব ব্যাংকের বেশির ভাগ শেয়ার আছে মুনাফা না করা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের হাতে। এসব ব্যাংক অনুমোদনের সময় থেকে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধান কার্যকর হবে না।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ