শাহজাদপুর সংবাদ

কলকাতায় আগুন: মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৪৫ AM

কলকাতায় আগুন: মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশি পর্যটকসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর ওই এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানতে চেয়েছে, এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? নোটিশের যথাযথ জবাব না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল শিখা ইন হোটেল। সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি ও ভারতের দুই নাগরিক মারা গেছেন। দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুর ছিলেন। নিহত ভারতীয় দুজনের একজন শিখা ইনের কর্মী ১৯ বছর বয়সী সন্দ্বীপ পাসোয়ান। তাঁর বাড়ি ঝাড়খন্ডের গিরিডিতে। অন্যজন যোগ নারায়ণ আগরওয়াল (৬৮)। বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হোটেলের অভ্যর্থনাকক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। পরে আগুন দ্রুত হোটেলের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ

শিখা ইন হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। প্রায় পাঁচ মাস আগে হোটেলটি আবুজাফর নামের এক ব্যক্তির স্ত্রীর নামে ভাড়া দেন। মাসে ৪০ হাজার রুপি ভাড়ায় ১১ মাসের চুক্তিতে হোটেলটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের দিন এ হোটেলে ১০ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি।

ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার আবুজাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাঁর স্ত্রী এখনো পলাতক। শিখা ইনের মালিকের আরেকটি হোটেল ‘যাপন’-এর এক কর্মীকেও গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

আবুজাফরকে গতকাল কলকাতার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠান।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ