শাহজাদপুর সংবাদ

করুণা নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০৪ PM

করুণা নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি চাকরি চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান

শৈশবে মাকে এবং কৈশোরে বাবাকে হারিয়েছেন। অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেও পড়াশোনা থামাননি জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া (২৫)। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এখন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে একটি স্থায়ী চাকরি চান।

মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২৩ সালে স্নাতক এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

মিজানের বাবা খোরশেদ মিয়া রিকশা চালাতেন। মিজানের একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় মারা যান খোরশেদ। বাবার মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং একটি বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যান মিজান।

২০২৩ সালে বিয়ে করেন হাবিবা বেগমকে। বর্তমানে সদর উপজেলার ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। মাসে আট হাজার টাকা বেতনে কোনোভাবে তাঁদের সংসার চলে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন মিজান। আবেদনে তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।

মিজান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর আয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। কিন্তু তিনি অসুস্থ। বেশি দিন এই চাকরি করতে পারবেন না। তাই আমার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন। কোনো করুণা নয়; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির প্রার্থনা করছি।’

বর্তমানে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন বলে জানালেন মিজানের স্ত্রী হাবিবা বেগম। তিনি স্বামীর চাকরির জন্য অনুরোধ করেন। তাহলে তাঁরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আমরা অবশ্যই সুপারিশ করব।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ