এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বড় অংশের ফল জিপিএ–৪ থেকে ৫–এর নিচে
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:০০ AM

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ও জিপিএ–৫—দুই সূচকেই বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কমে যাওয়া পাসের হার ও বিপুলসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী। তবে ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যারা পাস করেছে, তাদের বড় অংশের ফল মাঝামাঝি স্তরে। আবার বেশ কিছু শিক্ষার্থী খুব কম নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা ভবিষ্যতের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের ফল জিপিএ–৪ থেকে ৫–এর নিচে। এ ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১৯ শতাংশ। সাধারণভাবে এ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গড়ে প্রতিটি বিষয়ে ৭০ থেকে ৭৯ শতাংশ নম্বরের সমমানের ফল করেছে বলে ধরা হয়।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু পাস করা শিক্ষার্থীদের ফলের স্তর বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্রও সামনে আসে।
১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ (১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি)। এই শিক্ষার্থীদের গড়ে প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর ৮০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে। অন্যদিকে জিপিএ–৪ থেকে ৫–এর নিচে পেয়েছে ১৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ফলাফলের সর্বোচ্চ স্তরের চেয়ে এক ধাপ নিচে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, জিপিএ–৩ দশমিক ৫ থেকে ৪–এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ–৩ থেকে ৩ দশমিক ৫–এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই দুই স্তর মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় এক–চতুর্থাংশ রয়েছে মধ্যম মানের ফলের পর্যায়ে। অন্যদিকে জিপিএ–২ থেকে ৩–এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ–১ থেকে ২–এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীর হার মাত্র শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কতজন পাস করল বা কতজন জিপিএ–৫ পেল, তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন–অর্জনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না; বরং বিভিন্ন জিপিএ স্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে শেখার মান, প্রস্তুতি ও মূল্যায়নের ফল সম্পর্কে তুলনামূলক স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। বেশির ভাগ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে নেমেছে। গণিতেও অনেক বোর্ডে ফল তুলনামূলক দুর্বল। দুটি বিষয়ই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব বিষয়ে খারাপ ফল সার্বিক পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে গ্রুপভিত্তিক ফলাফলেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে কম। এই বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ফলাফলকে শুধু ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখলে হবে না; পাস করা শিক্ষার্থীদের বড় অংশ যে জিপিএ–৪ থেকে ৫–এর নিচে এবং মধ্যম স্তরের জিপিএতে অবস্থান করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এটি দেখায়, একদিকে যেমন জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ ব্যর্থও হয়নি; বরং তারা মাঝামাঝি পর্যায়ের অর্জন নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আবার কিছু শিক্ষার্থী খুব কম নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা ভবিষ্যতের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু পাসের হার নয়, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে—সেটিই শেষ পর্যন্ত শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড হয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর সামর্থ্য কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় না। এখন সরকারের উচিত দ্রুত একটি বিস্তারিত ‘পোস্ট–রেজাল্ট অ্যানালাইসিস’ করা। কোন বিষয়ে, কোন অঞ্চলে ও কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। ইংরেজি, গণিতসহ দুর্বল বিষয়গুলোয় বিশেষ সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, একাডেমিক সহায়তা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট দেবে গবেষণা বৃত্তি, দেখুন ক্যাটাগরি ও নির্দেশনা
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৪৮ PM · প্রথম আলো
আট মাত্রার জাদু: ফিল্ডস মেডেলজয়ী দ্বিতীয় নারী মেরিনা ভিয়াজোভস্কা
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৪৩ AM · প্রথম আলো
এসএসসির পর কোথায় ভর্তি: শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কিছু কথা
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:১১ AM · প্রথম আলো
শিক্ষক–সংকট কমাতে খণ্ডকালীন ‘শিক্ষক পুল’ গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ৫:৩৩ PM · প্রথম আলো
অবসর–সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:২৩ PM · প্রথম আলো
