এনদ্রিক ‘ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলা’র পরই ৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ঝড় তোলে রিয়াল
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩১ AM

অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩–১ গোলে এগিয়ে ছিল এএস রোমা। মিনিট দশেক পর যখন শেষ বাঁশি বাজল, স্কোরলাইন দেখে চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগার। ৭ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে উল্টো রোমাকেই ৪–৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ!
চ্যাম্পিয়নস লিগের ভক্ত হলে রিয়ালের এমন ঘুরে দাঁড়ানো দেখে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোমার দর্শক হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়া সময় বলতে পারেন, ‘ওই তো, ওরা এ রকমই করে!’ সেটা বেশির ভাগ সময়ই চ্যাম্পিয়নস লিগে আর দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার ওই জায়গা থেকে কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পারলে সেটা রিয়ালই পারে।
সেই প্রমাণ রয়েছে ইতিহাসেই। ২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩ সালে লিভারপুল, ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং গতকাল রাতে রোমা—এই চার ম্যাচে দুই গোলে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতা দল রিয়াল। রোমার বিপক্ষে জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে চার ম্যাচে দুই গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয়ের রেকর্ড গড়ল মাদ্রিদের ক্লাবটি।
তাতে রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুনশিয়ানা ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩–১ গোলে পিছিয়ে থাকতে ৫৯ মিনিটে মরিনিও ভিনিসিয়ুস ও ডামফ্রিজকে তুলে নামান এনদ্রিক ও আরদা গুলেরকে। ১৮ মিনিট পর দিয়ামন্দের জায়গায় নামেন কার্লোস এসপি। রিয়ালের শেষ দিকে তিন গোলেই অবদান রয়েছে এই তিন বদলি খেলোয়াড়ের।
বিশেষ করে এনদ্রিক। রোমা গোলকিপার গোলিনির পরীক্ষা নেন এই ব্রাজিলিয়ান ৮৩ মিনিটে, সেটার ফলই ফিরতি শটে এসপির গোল। এরপর তো ৫ ফুট সাড়ে ৬ ইঞ্চি উচ্চতার শরীর নিয়ে রোমার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেডে গোলও করলেন। চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এটা ছিল এনদ্রিকের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৪ মিনিট। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই হলেন সেরা খেলোয়াড়। সেটাও এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যাঁরা তাঁকে কিনতে চায়!
৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়িয়ে তুলে নেওয়া জয়ও গড়েছে রেকর্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে দ্রুততম সময়ে দুই গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের রেকর্ড। সেই জয়ে সেরা খেলোয়াড় এনদ্রিক ম্যাচ শেষে বলেছেন দারুণ এই ঘুরে দাঁড়ানোয় তাঁর নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে।
এনদ্রিকের কথাগুলো বেশ আধ্যাত্মিক হলেও মনের জোর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো, ‘ম্যাচের আবেগ এখনো আমার মধ্যে কাজ করছে। আমি তখন বেঞ্চে বসে ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলছিলাম। পাশে তাকাতেই দেখি নুনো আমাকে ডাকছে। আমি মাঠে নামলাম এবং ঈশ্বরের সঙ্গে কথা চালিয়ে গেলাম। কারণ, ভাবিনি এত কম সময়ে আমাকে নামানো হবে। মাঠে নেমে আমি আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজটিই করতে পেরেছি, আর তা হলো ফুটবল খেলা।’
মাঠে নামানোর সময় মরিনিও ঠিক কি বলেছিলেন এনদ্রিককে? ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের উত্তর, ‘মরিনিওর সঙ্গে কথা বলার সময় তাকিয়ে দেখি (রোমার) ম্যালেন আরেকটি গোল করল। কিন্তু আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, আর স্কোর যেমনই হোক না কেন, আমরা ম্যাচে লড়াই করতেই নামি। ৩-১ থেকে আমরা যেভাবে ৪-৩ করলাম, তাতে প্রমাণ হয় যে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
তবে প্রথমার্ধে রিয়ালের প্রত্যাশানুযায়ী খেলতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন মরিনিও। রোমা তাঁর সাবেক ক্লাব বলেই হয়তো পরের অর্ধে ভুল শুধরে নিতে সময় লাগেনি। সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধের দায় কোচের, দ্বিতীয়ার্ধের দায় খেলোয়াড়দের। ফুটবল ৯০ মিনিটের কৌশলগত খেলা। প্রতিপক্ষের গুরুত্ব আছে, আজ (গতকাল রাত) প্রতিপক্ষ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিশালী। আমি প্রয়োজন অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নামিয়েছি। তবে প্রথমার্ধে তারা সত্যিই আমাদের শাস্তি দিয়েছে।’
ভিনিসিয়ুস বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে। কোচের সিদ্ধান্তটা নাকি তিনি বুঝতে পারেননি। তাই ‘রাগ করাটাই স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। মরিনিওর কাছে অবশ্য ভিনির এমন প্রতিক্রিয়াই স্বাভাবিক। রিয়াল কোচের ভাষায়, ‘ভিনির জন্য বিষয়টি কঠিন। ভিনি এমন একটি বল হারিয়েছে, যা তার কোনোভাবেই হারানো উচিত ছিল না (রোমার দ্বিতীয় গোলে)। তবে খেলায় এমনটা হতেই থাকে। আমিও ভুল করি। তার মন খারাপ হতেই পারে। তবে ম্যাচ শেষে সে জয় নিয়ে ভীষণ খুশি ছিল।’
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
ভিনির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মরিনিও—‘তারা নির্লজ্জভাবে এসব কাজ করে’
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:১৩ PM · প্রথম আলো
এ বছর বিশের খেলায় চার–ছক্কায় বোলারদের জীবন বিষিয়ে তুলেছেন কারা
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:২৩ PM · প্রথম আলো
