এটা গুলিস্তানের গল্প, বন্ধুকে সতর্ক করে দেখলাম নিজের মুঠোফোনটিই নেই
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৪৪ PM

বঙ্গভবনের সামনে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে গুলিস্তান। তবু এলাকাটি যেন ‘অপরাধীদের আখড়া’, বিশৃঙ্খলায় ভরা।
রাজধানীর গুলিস্তানে প্রথম যাই চার বছর আগে। উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জ যাত্রা। গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় বাস থেকে নামার আগে বন্ধুকে সতর্ক করে বলেছিলাম, সাবধান! মুঠোফোন চুরি হতে পারে।
বাস থেকে নেমে গুলিস্তান পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের বাসে ওঠার পর দেখলাম, নিজের মুঠোফোনটিই নেই। কখন পকেটমার নিয়ে গেছে, টের পাইনি।
গুলিস্তানে আবার গেলাম ৯ আগস্ট। সেখানকার স্কয়ার মোড় এলাকার জুতা বিক্রেতা সোলাইমান কবিরের কাছে জানতে চাইলাম, গুলিস্তান কি বদলেছে? তিনি বললেন, ‘না। আগের মতোই আছে। বাসের জানালা দিয়ে কখনো যাত্রীদের কানের দুল, কখনো ফোন টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়। চোখের সামনেই দেখি। আর পকেটমারার ঘটনা তো প্রতিদিনই ঘটে।’
গুলিস্তানের অবস্থান রাষ্ট্রপতির বাসভবন, অর্থাৎ বঙ্গভবনের ঠিক সামনে। বঙ্গভবন থেকে গুলিস্তান স্কয়ার মোড়ের দূরত্ব ২০০ মিটারের কাছাকাছি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও গুলিস্তান খুব কাছে, গুগল বলছে দূরত্ব ৬০০ মিটারের মতো। গুলিস্তান থেকে হাঁটলে সচিবালয় কয়েক মিনিটের পথ, সিটি করপোরেশনও কাছে। কিন্তু গুলিস্তান যেন অপরাধীদের ‘আখড়া’।
গুলিস্তানে ছিনতাই ও পকেটমারা নিত্যদিনের ঘটনা। সেখানে দিনদুপুরে চাঁদাবাজি চলে। রীতিমতো রসিদ দিয়ে চাঁদা ওঠায় চাঁদাবাজেরা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। প্রতারণা ও চোরাই পণ্যের কেনাবেচা হয় চোখের সামনে। পাশাপাশি সড়কে বিশৃঙ্খলার একটি উদাহরণ গুলিস্তান। গুলিস্তান অপরিচ্ছন্ন, গুলিস্তানে হেঁটে চলাচল করা কঠিন।
১০ আগস্ট গুলিস্তানে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বক্সে পাওয়া গেল একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গুলিস্তানে খুব প্রয়োজন না হলে তিনি পকেট থেকে মুঠোফোন বের করেন না। এয়ারবাড ব্যবহার করে কথা বলেন। কারণ, বের করলেই মুঠোফোন ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে পারে ছিনতাইকারীরা।
অথচ গুলিস্তান শব্দের অর্থ ফুলের বাগান। শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ঢাকাকোষ বলছে, রমনার ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের উত্তরে ঢাকা জেলা ক্রীড়া মিলনায়তন এবং পল্টন মাঠের পাশে ১৯৫৩ সালে গুলিস্তান নামের একটি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেখান থেকেই এলাকাটির নাম হয় গুলিস্তান।
চলচ্চিত্রবিষয়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক অনুপম হায়াৎ লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজল আহমেদ দোশানি ঢাকায় চলে আসেন এবং এই প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ। প্রথমে হলটির নাম ছিল লিবার্টি। পরে গুলিস্তান করা হয়। এখানে দেশি-বিদেশি সব সিনেমা দেখানো হতো।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চলচ্চিত্র এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য গুলিস্তান খুব বিখ্যাত ছিল। এখন এলাকাটি বিশৃঙ্খল ও অপরাধপ্রবণ বলেই পরিচিত।
চাঁদাবাজি পুরোনো, চাঁদাবাজ নতুন
গুলিস্তানের অপরাধ বিষয়ে খোঁজ নিতে ৯, ১০ ও ১১ আগস্ট পরপর তিন দিন সেখানে গিয়েছি। সকাল থেকে বিকেল, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দেখেছি সেখানে কী হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, গুলিস্তানের সব ফুটপাত এবং রাস্তার বড় অংশ হকারদের দখলে। হকারদের কাছ থেকে ওঠানো হয় চাঁদা।
৯ আগস্ট বিকেলে গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটের উত্তর পাশে ফুটপাতে অবৈধ দোকান থেকে এক ব্যক্তি ১০০ করে টাকা নিচ্ছিলেন। কীসের টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাজনার টাকা।’ নাম ও পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। হকারদের কাছ থেকে জানা গেল, তাঁর নাম জাহাঙ্গীর। তিনি ফুটপাত থেকে চাঁদার টাকা ওঠান।
হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদার পরিমাণ দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা। বিপণিবিতান ঘেঁষে যে ফুটপাত রয়েছে, সেসব ফুটপাতে দোকান বসাতে ‘ভাড়াও’ দিতে হয়। মাসিক দোকানভেদে ভাড়া ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।
চাঁদাবাজি নতুন নয়। সব সরকারের আমলেই চাঁদাবাজি চলে। ইতালিয়ান সোসিওলজিক্যাল রিভিউ নামক একটি সাময়িকীতে ২০১৯ সালে ‘নগর, অনানুষ্ঠানিকতা ও দারিদ্র্য: ঢাকা শহরের হকারদের মেরুকরণ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। গুলিস্তানসহ ঢাকার পাঁচটি এলাকার ওপর করা ওই গবেষণায় বলা হয়, ফুটপাতে ব্যবসা চালানো হকারদের ৭০ শতাংশকে কোনো না কোনো পক্ষের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করতে হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ৩৫ শতাংশ পুলিশ, সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ১৪ শতাংশ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা করেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজি হাতবদল হয়েছে। গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে ভ্যানে করে পোশাক বিক্রি করা এক হকার বলছিলেন, ‘আগে একদলের নেতারা খাইছে, এখন আরেক দলের নেতারা খাচ্ছে।’
ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মজু, দোকান মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বাসেত, ঢাকা ট্রেড সেন্টার (দক্ষিণ) দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মীর আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানা, ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মনির হোসেন (টিটু), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, শাহবাগ থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ চাঁদাবাজদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পাওয়া গেছে দুজনকে।
২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সেখানে চাঁদাবাজি হয়। তবে তিনি জড়িত নন। প্রতিহিংসা থেকে তাঁর নাম বলা হতে পারে।
অন্যদিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমরা ব্যবসা করে খাই। কিছু কর্মী হয়তো আমাদের নাম করে টাকা ওঠাতে পারে। পুলিশও এদের সঙ্গে জড়িত।’
এদিকে গুলিস্তান এলাকার ঢাকা ট্রেড সেন্টারের বিপরীতে ফ্লাইওভার–সংলগ্ন সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট ও পোলট্রি পট্টি এলাকায় ফুটপাতের দোকান ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে চাঁদা ওঠান কয়েকজন ব্যক্তি। চাঁদার টাকা নেওয়ার সময় তাঁরা রসিদও দেন।
রসিদ সংগ্রহ করে দেখা যায়, তাতে গুলিস্তানসহ ১৬টি স্থানে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে। ইজারাদারের নাম লেখা শেখ নিয়াজ মোর্শেদ।
নিয়াজ মোর্শেদ এলাকায় জুম্মন নামে পরিচিত। তিনি বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চাঁদাবাজি করেন না। সিটি করপোরেশন থেকে তাঁর নামে কিছু এলাকার ইজারা নেওয়া রয়েছে। যেখানে রসিদ দিয়ে খাজনা নেওয়া হয়।
অবশ্য রসিদ দেখানোর পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গেলে সংস্থাটির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, রসিদটি বৈধ নয়। সিটি করপোরেশন বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেয়। রসিদে ইজারার মেয়াদকাল উল্লেখ থাকে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুলিস্তান এলাকার নগর প্লাজা, জাকের প্লাজা, কাপ্তান বাজার, নগর বিপণিবিতান, সিদ্দিকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বংশাল থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মামুন আহমেদ, বংশাল থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন, যুবদল নেতা রনজুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর এসব এলাকা জামায়াত দখল করে রেখেছিল। আমরা উদ্ধার করেছি। তাই হকারদের দিয়ে জামায়াতের লোকজন উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নামে এসব ছড়ায়।’
বংশাল থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করেন।
চোখের সামনে ছিনতাই
গুলিস্তান এককভাবে কোনো থানার অধীনে পড়েনি। একাংশ পল্টন, একাংশ শাহবাগ এবং একাংশ বংশাল থানার আওতায় পড়েছে। অন্যদিকে শুধু গুলিস্তানে কত অপরাধের ঘটনা ঘটে, সে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
অবশ্য খেয়াল করলেই অপরাধীদের চোখে পড়ে। গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় কিছু অপরাধীকে যানবাহনের আশপাশে ঘুরঘুর করতে দেখা যায়। সুযোগ পেলে তারা ছোঁ মেরে মুঠোফোন, নারীদের গয়না, ঘড়ি ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়।
১০ আগস্ট জিরো পয়েন্ট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা গেল, এক নারীর কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে এক ছিনতাইকারী। নারীর কান ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত ঝরছিল। অন্যদিকে ছিনতাইকারীকে ধরে মারধর করছিলেন কিছু মানুষ।
গুলিস্তানে অপরাধের খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে আসে। যেমন গত বছরের ৯ জানুয়ারি গুলিস্তানের একটি মসজিদে ইমামতির আড়ালে মাদক সিন্ডিকেট চালানোর দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৪ জুলাই রমনা ভবন মার্কেটের সামনের ফুটপাতে এক কাপড়ের দোকান কর্মচারীকে অচেতন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গুলিস্তানে প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায় তরুণ ও কিশোরদের। এমনকি ট্রাফিক পুলিশের বক্সের সামনেই চলে মাদক গ্রহণ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি প্রথম আলোকে বলেন, গুলিস্তানে অপরাধ দমনে তাঁরা সব সময় সচেষ্ট। কিন্তু অপরাধীরা জামিন পেয়ে আবার অপরাধ করে। তিনি বলেন, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক একটি বিষয় রয়েছে। যদি সব পক্ষকে নিয়ে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আনা যায় এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে হয়তো পরিবর্তন আসবে।
তবু মানুষকে গুলিস্তানে যেতে হয়
রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত। বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসাকেন্দ্রও গুলিস্তান। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে গুলিস্তানে যেতে হয়।
আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্যসচিব জাভেদ জাহান প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গভবনে চলাচলের ভিন্ন পথ রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা পুলিশ সদর দপ্তরে গুলিস্তান দিয়ে যান না। গুলিস্তানে সাধারণ মানুষ যায় এবং তাদের মনে অপরাধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুলিস্তানের অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, দেখে যদি না দেখার ভান করে, তাহলে তো কোনো কিছু ঠিক করা যায় না।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:১০ PM · প্রথম আলো
মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে সোনা–রুপা লুট, ফাঁকা গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:০২ PM · প্রথম আলো
তারে গামছা শুকাতে দিতে গিয়ে পুত্রবধূ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন শ্বশুরও
১৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ৫:৩৩ PM · প্রথম আলো
পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৪৯ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হলো
১৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৩৮ PM · প্রথম আলো
