শাহজাদপুর সংবাদ

‘এখন তো দর্শকেরা আমাদের “আঙ্কেল” বলে ফেলেছে’

৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:১৫ PM

‘এখন তো দর্শকেরা আমাদের “আঙ্কেল” বলে ফেলেছে’

‘আমরা যারা জেন-জি, তারা কমল ভাই, সুমন ভাই, রাফা ভাই ও শিশির ভাইকে একসঙ্গে পারফর্ম করতে দেখিনি। তাই চারজনকে একই মঞ্চে দেখা, পাশাপাশি পছন্দের গানগুলো তাঁদের পরিবেশনায় শোনা—এই অভিজ্ঞতা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়,’ প্রথম আলোকে বলছিলেন ফরিদপুর থেকে আসা শ্রোতা রুশা খানম। তিনি জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো অর্থহীনের পুরোনো ‘অসমাপ্ত’ লাইনআপকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি; তাই ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ছুটে এসেছেন।

ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টালে হোটেলে গত শুক্রবার রাতে অ্যাভয়েড রাফার এত বোকা কেন তুমি অ্যালবামের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও শোর আয়োজন করে ঢাকা ব্রডকাস্ট। প্রায় দেড় দশক পর সেই শোতেই একসঙ্গে পারফর্ম করলেন ২০০৮ সালে ঝড় তোলা অর্থহীনের অসমাপ্ত ১ অ্যালবামের লাইনআপের চার প্রাণভোমরা—সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন, ইব্রাহিম আহমেদ কমল, শিশির আহমেদ ও রাফা।

২০০৩ সালে ধ্রুবক অ্যালবাম প্রকাশের পর দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিল অর্থহীন। পাঁচ বছর পর ২০০৮ সালে পঞ্চম অ্যালবাম অসমাপ্ত ১ নিয়ে ফিরে আসে তারা। এরপরে অসমাপ্ত ২ প্রকাশ করে অর্থহীন। সুমন থেকে গেলেও তত দিনে অর্থহীন ছেড়েছেন কমল ও রাফা। অবশ্য শিশির ২০২৩ সালে ছাড়ার পর আবার এ বছর অর্থহীনে ফিরেছেন। কমল বর্তমানে ওয়ারফেজে আছেন। আর রাফা নিজেই অ্যাভয়েড রাফা নামে ব্যান্ড গড়েছেন। ব্যান্ড ছাড়ার আগে ২০১২ সালের শুরুর দিকে শেষবারের মতো চারজনকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল।

এত বছর পরের পুনর্মিলনটা রাঙিয়ে তুললেন কমল, সুমনরা। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মঞ্চে ছিলেন তাঁরা, ‘অসমাপ্ত’, ‘আনমনে’ থেকে ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’—একের পর এক গানে উন্মাদনা ছড়িয়েছেন সুমন। সুমন প্রায়ই বলেন, তাঁকে গান গাইতে হয় না। শ্রোতারাই অর্থহীনের গান গেয়ে ফেলেন, সেদিনই তার প্রমাণ পাওয়া গেল। সুমনদের প্রায় সব গানেই শোতে হাজির শ্রোতাদের কণ্ঠ মেলাতে দেখা গেছে।পরিকল্পনা করেন রাফা

‘অসমাপ্ত’ লাইনআপকে ফেরানোর মূল পরিকল্পনা করেন রাফা। কেন?—জানতে চাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে এই শো করার পেছনে অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। অর্থহীন ছাড়ার পরই আমার মনে হয়েছিল, আমি একটা অ্যালবাম করব। একই সঙ্গে একটা ইচ্ছাও ছিল—একদিন যেন আমরা আবার একসঙ্গে একটা মঞ্চে দাঁড়াতে পারি। পিংক ফ্লয়েডের ডেভিড গিলমোর আর রজার ওয়াটার্সের মতো শিল্পীদের আমরা দেখেছি। তাঁরা অনেক আগে ব্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁদের ভক্তরা সারা জীবন অপেক্ষা করেছে, কবে তাঁরা আবার একসঙ্গে মঞ্চে উঠবেন। আমারও সব সময় মনে হয়েছে, আমাদের ক্ষেত্রেও এমন কিছু হলে কেমন হয়।’

২০১৫ সালে অর্থহীন ছাড়েন রাফা, ‘তারপর দেখতে দেখতে অনেক বছর চলে গেছে। আমরা সবাই আলাদা পথে কাজ করেছি; কিন্তু একটা সময় মনে হলো, সময় তো থেমে থাকবে না। আমরা যারা একসঙ্গে ছিলাম, আমাদের বয়সও হচ্ছে। তাই আর অপেক্ষা না করে মনে হলো, এবার কাজটা করেই ফেলি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে বিষয়টা নিয়ে সিরিয়াসভাবে ভাবতে শুরু করি। বাবাকে হারানোর পর জীবন নিয়ে আমার ভাবনাতেও অনেক পরিবর্তন আসে। তখন মনে হয়েছে, কিছু স্বপ্ন পরে করব বলে রেখে দিলে হয়তো আর করা হবে না।’

তরুণ শ্রোতাদের সামনে অর্থহীনের পুরোনো গানগুলো নিয়ে আসারও পরিকল্পনা ছিল। রাফা বলেন, ‘আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন এই গানগুলো করতাম। এখন তো দর্শকেরা আমাদের “আঙ্কেল” বলে ফেলেছে। তাই ভাবলাম, তাদের সামনে আবার সেই গানগুলো করা উচিত। না হলে একসময় হয়তো তাদের বাবার কাছে গিয়ে শুনে আসতে হবে—“তোমরা এমন একটা ব্যান্ড ছিলে, যারা এভাবে মিউজিক করত।” আমাদের ইচ্ছা ছিল, এই প্রজন্মের দর্শকদের সামনে সেই সময়ের গানগুলো আবার নিয়ে আসা। নতুন প্রজন্মের মানুষ যেন বুঝতে পারে, একটা সময় আমরা কী ধরনের মিউজিক করতাম।’

অর্থহীনের বর্তমান সদস্য শিশির আহমেদ শ্রোতাদের ভালোবাসায় আপ্লুত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘“অসমাপ্ত”র পুরোনো লাইনআপ নিয়ে যখন আমরা চারজন আবার স্টেজে উঠলাম, সেটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের একটা মুহূর্ত ছিল। এত বছর পর আমরা আবার একসঙ্গে মঞ্চে উঠব, সত্যি বলতে কখনো ভাবিনি। আমরা যেমন আবেগাপ্লুত ছিলাম, দর্শকদের মধ্যেও একই আবেগ দেখেছি। পুরোনো গানগুলো আবার একসঙ্গে করা, সেই স্মৃতিগুলোকে নতুন করে ফিরে পাওয়া—এটা অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা। একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে এটা আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এত বছর পর আবার একসঙ্গে স্টেজে উঠতে পারা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আবার কখনো একসঙ্গে স্টেজে ওঠা হবে কি না, জানি না। তবে এই মুহূর্তটা আমাদের কাছে সব সময়ই বিশেষ হয়ে থাকবে। আর আমাদের সব দর্শক ও ভক্তকে ধন্যবাদ—এত বছর ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য। তাঁদের জন্যই তো আমাদের মিউজিক করা।’

সামনে ‘অসমাপ্ত’ লাইনআপকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাফা বলেন, ‘কোনো কিছু বেশি করে ফেললে তার মূল্য কমে যেতে পারে। একটা চাহিদা থাকা দরকার। এখন যেহেতু একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় করে করতে পারি। দেখা যাক, কী হয়; ইচ্ছা অবশ্যই আছে।’শোতে ‘চলো আরেকবার উড়ি’ গানটি রাফার সঙ্গে পরিবেশন করেন প্রীতম হাসান। ‘আমি আকাশ পাঠাব’ গানে যোগ দেন রাফার বড় ভাই সাদী মুক্তাফি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ