ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার এবং সুন্দর আচরণের গুরুত্ব
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৪৬ AM

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কেরও সুস্পষ্ট নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। এসবের মধ্যে প্রতিবেশীর অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষ তার বাড়ি, মহল্লা ও সমাজে যেসব মানুষের সঙ্গে প্রতিদিন জীবনযাপন করে, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা তার উত্তম চরিত্র ও ঈমানের নিদর্শন।
প্রতিবেশীর গুরুত্ব প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত অসিয়ত করতে থাকলেন। এমনকি আমার মনে হতে লাগলো, তিনি হয়তো তাকে (প্রতিবেশী) উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন। (সহিহ বুখারি) এই হাদিসটি সুস্পষ্ট প্রমাণ করে যে, ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার কোনও সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক দায়িত্ব।
প্রতিবেশীর সবচেয়ে মৌলিক অধিকার হলো, সে যেন আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে। মুখে তাকে গালমন্দ করা, দুর্ব্যবহার করা, অযথা শব্দ করা, চলাচলের পথ আটকে দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, তার চলাচলের পথে গাড়ি পার্ক করে রাখা অথবা যেকোনও উপায়ে তাকে বিরক্ত করা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়- যার কষ্টদায়ক কর্মকাণ্ড থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। (সহিহ বুখারি)
প্রতিবেশী অভাবগ্রস্ত হলে তাকে সাহায্য করা, ক্ষুধার্ত হলে তাকে খাবার দেওয়া, অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেওয়া এবং কোনো সমস্যায় পড়লে তার সহযোগী হওয়া একজন মুসলমানের দায়িত্ব। রাসুল (সা.) বলেছেন, সে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খাবার খায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। (আল-আদাবুল মুফরাদ)
প্রতিবেশীর ঘরের বিষয় অন্যদের কাছে প্রকাশ করা, তার পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা, তার দুর্বলতাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা অথবা তার সম্মানহানি করা অত্যন্ত অনুচিত কাজ। ভালো প্রতিবেশী সেই ব্যক্তি, যার ব্যাপারে অন্যরা আশ্বস্ত থাকে যে, তার অনুপস্থিতিতেও সে তাদের সম্মান, সম্পদ ও ঘরের বিষয়গুলো রক্ষা করবে।
প্রতিবেশীর আনন্দে অংশ নেওয়া এবং দুঃখের সময়ে তার পাশে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। তার অসুস্থতার সময় খোঁজখবর নেওয়া, বিপদে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া, মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনের সময় বাস্তবিক সহযোগিতা করাও সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত।
ভালোবাসা সবসময় বড় কোনও জিনিসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় না। কখনও একটি সালাম, একটু হাসি, সামান্য খাবার, ছোট্ট একটি উপহার অথবা কল্যাণকামিতার কয়েকটি কথাও সম্পর্ককে দৃঢ় করে তোলে। রাসুল (সা.) বলেছেন, হে মুসলিম নারীরা! কোনও প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীর জন্য কোনও জিনিসকে তুচ্ছ মনে না করে, তা বকরির খুরই হোক না কেন। (সহিহ মুসলিম)
ঘর নির্মাণ, উচ্চস্বরে শব্দ করা, শিশুদের খেলাধুলা, পানি ব্যবহার, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, গাড়ি পার্ক করা এবং চলাচলের পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর সুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। যে কাজটি নিজের জন্য অপছন্দনীয় মনে হয়, তা অন্যের জন্যও করা উচিত নয়।
প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ শুধু মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গেও ন্যায়বিচার, উত্তম আচরণ, কল্যাণকামিতা ও মানবিক সহমর্মিতার আচরণ করতে হবে। ইসলাম প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সদাচরণের অধিকার স্বীকার করেছে। তাই আমাদেরও সব ক্ষেত্রে প্রতিবেশীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
