‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৫২ AM

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টা। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে মেরাদিয়া বাজারে বাজার করতে এসেছেন নাজিয়া রকমান নামের এক অভিভাবক। মাছের বাজারে এসে এ-পাশ ও-পাশ ঘুরছেন আর মাছ দেখছেন। এক পর্যায়ে কথা হয় তার সঙ্গে।
নাজিয়া রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোট মাছ কেনার চেষ্টা করছি। কিন্তু দামে মিলছে না। টেংরা মাছ ৭৫০ টাকা কেজি চায়। ৭২০ হলে দেবে বলছে। মলা মাছ প্রায় ৫০০ টাকা কেজি চাচ্ছে। ছোট পুঁটি মাছ, সেটিও ৩০০ টাকার ওপরে চায়। আসলে কোনটা কিনবো ভেবে পাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘যেভাবে দাম বাড়ছে বা মাছের এখন যা দাম চায়, তাতে কী মাছ খাবো আগে চিন্তা করতে হয়। ছেলে-মেয়ে রুই, পাঙাস কিংবা তেলাপিয়া আর কত খাবে? আমাদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবার একটু ভালো খেতে গেলে আগে-পিছে অনেক ভাবতে হচ্ছে। একদিন ছেলে-মেয়েকে পোলাও রোস্ট খাওয়ালে, এক মাস আর এটা খাওয়ার চিন্তা করতে পারি না।’
নাজিয়া রহমান বলেন, ‘দেখেন আমার এক ছেলে এক মেয়েসহ ৪ জনের পরিবার। স্বামী বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার যা আয় তাতে আমরা বাড়ি ভাড়া, ছেলে মেয়ের পড়াশুনা, খাওয়া, ডাক্তার ঠিক মতো দেখাতে পারি না। আবার গ্রামের বাড়িতেও স্বজনদের দেখতে হয়। আর এতে করে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের মতো পরিবারগুলোর নীরব কান্না দেখার মত কেউ নেই। বাজারের নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে আমরা আর পেরে উঠছি না। ছেলে মেয়ের ইচ্ছে যখন পূরণ করতে পারি না, তখন নীরবে তো কান্নাই করতেই হয়।’
নাজিয়া রহমানের সঙ্গে বাজার করতে আসা আয়েশা বেগম বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টে আছে আমাদের মতো পরিবারগুলো। যাদের মাসিক আয় ৪০ হাজারের মতো তারা আছেন উভয় সংকটে। তারা না পারে খারাপ জায়গা থাকতে, না পারে খারাপভাবে চলতে। এরাই এখন ঢাকা শহরে বুকচাপা কান্নায় রয়েছেন। আর যারা দরিদ্র তারা যে ভালো আছেন এমনটাও নয়। তারা একটা পরিবেশে থাকেন। তারাও যে দুবেলা ভালো খাচ্ছেন ভালো পরছেন এমনটা না। সবমিলিয়ে মানুষ যে ভালো আছেন এমনটা বলা যাবে না।’
নাজিয়া কিংবা আয়েশা নয় বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আর্তনাদ শোনা যায়। চাল, ডাল, আটা, ময়দা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে তাদের যে কষ্ট হচ্ছে বাজারে গেলে টের পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারের মাছ বিক্রেতা মিন্টু বলেন, ‘দেখেন আমাদের করার কী আছে। আমি তাজা রুই কাতলা বিক্রি করি। এই মাছগুলো সাধারণত উত্তরাঞ্চল থেকে আসে। আগে আমরা এই মাছ ২২০ থেকে ২৫০, আর বড় সাইজেরগুলো ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন ৩৬০-৩৮০ থেকে শুরু। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মাছ আগে ঢাকায় নিয়ে আসতে যা খরচ এখন তা প্রায় দ্বিগুণ। আমরা তো মাছ লোকসানে বিক্রি করবো না। আমরাও তো আর বেশি লাভ করতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘অন্যদের মতো আমরাও ভুক্তভোগী। আমি মাছ বিক্রি করলেও আমাকেও তো খেতে হয়।’
এদিকে বাজারে সবজির দাম আজ অপরিবর্তিত। পটল ৬০, আলু ৩৫, করলা, ৮০- ১০০, কাকরল ৮০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৭০, চিচিঙ্গা ৫০, বেগুন ৮০- ১৩০, টমেটো ১৫০, সিম ১২০, ভেন্ডিব ৫০, ফুলকপি ৬০, মুলা ৬০, পেপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এর মধ্যে গত কয়েকদিন আগে কেজিতে ১০০- ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। টমেটোরও কেজি ছিল প্রায় ২৫০ টাকা। এছাড়া কাকরল, ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার দামও কমেছে। কমেছে বরবটির দামও। বরবটি ৬০- ৭০ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়৷ বরবটি কদিন আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছিল।
এছাড়া বাজারে ময়দা ২ কেজি ১৪০ থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা, চিনি ১১০, আটা প্যাকেট ৬৫ থেকে বেড়ে ৭০, আর খোলা আটা ৪০-৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। গায়ে দেওয়া সব ধরনের সাবানের দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে, হুইল গুড়া ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা প্রতি কেজি। হুইল সাবান ৩০ থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা। খোলা চাল সর্বনিম্ন গুটি স্বর্ণা ৫০ টাকা।
ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে ১৪০, আদা ১৬০ টাকা থেকে বেড় ১৮০-২০০, রসুন ১৮০ থেকে বেড়ে ২০০, ডাল মোটা মসুর ১০০, চিকন ১৫০-১৬০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পোলাওয়ের চাল ২০০ টাকার কাছাকাছি প্রতি কেজি।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে পণ্যের যা মূল্য, তাতে জীবন চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে অটোচালক, রিকশাচালক, শ্রমিকদের জীবন আরও কঠিন। এখন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে আরও দাম বাড়বে। যদি বাড়ে, তাহলে মানুষের চলাফেরা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
সম্পর্কিত সংবাদ
বেনামে কোম্পানির মালিক হওয়া যাবে না, সংশোধন হচ্ছে আইন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৪০ AM · প্রথম আলো
আয়কর রিটার্ন না দিলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ ৫ ধরনের শাস্তি
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৩০ AM · প্রথম আলো
