শাহজাদপুর সংবাদ

আপনার তথ্যই অনলাইনে পণ্য, কারা করছে বেচাকেনা?

১ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৪৯ AM

আপনার তথ্যই অনলাইনে পণ্য, কারা করছে বেচাকেনা?

ইন্টারনেটের জগতে প্রতিটি ধাপেই ব্যবহারকারীর অজান্তেই সংগ্রহ করা হয় নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য। অনলাইন কেনাকাটা, ওয়েবসাইট ব্রাউজিং কিংবা স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় সংগৃহীত এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, লাইভ লোকেশন, ব্রাউজিং হিস্ট্রি সহ অজস্র ব্যাক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য। বিশেষায়িত কিছু প্রতিষ্ঠান এসব তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে বিশ্লেষণের পর অন্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ‘ডেটা ব্রোকার’ নামে পরিচিত এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পাশাপাশি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।

ডেটা ব্রোকার হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যারা বিভিন্ন উৎস থেকে নেটিজেনদের অনলাইন তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করে ও সাজিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে বিক্রি করে। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুই ধরনের। একদল মানুষের নাম, যোগাযোগের তথ্য, ঠিকানা ও বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে। অন্যরা বিজ্ঞাপন ও বাজার বিশ্লেষণের জন্য মানুষের অনলাইন আচরণ এবং কেনাকাটার অভ্যাস নিয়ে কাজ করে।

তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বর্তমান ও আগের বাসস্থানের ঠিকানা, বয়স, কেনাকাটার অভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য কার্যক্রম, ব্রাউজিংয় হিস্ট্রি এবং ডিভাইসের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য। সরকারি নথি, বিভিন্ন অ্যাপ, দোকানের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ও তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্ম থেকেও এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে কোনও সেবায় বা প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্যও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হতে পারে।

সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুধু বিজ্ঞাপন দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনও ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা, পছন্দ, জীবনযাপন ও ঝুঁকির ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা যায়। ফলে ঋণ বা বিমার আবেদন যাচাই, পরিচয় নিশ্চিত করা, জালিয়াতি শনাক্ত করা, এমনকি রাজনৈতিক প্রচারের লক্ষ্য নির্ধারণেও ডেটা ব্রোকারদের তথ্য কাজে লাগানো হয়।

তবে এসব তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য হাতে পেলে প্রতারকেরা আরও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং হামলা চালাতে পারে। একইভাবে, কোনও ডেটা ব্রোকারের তথ্যভান্ডার সাইবার হামলার শিকার হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য একসঙ্গে ফাঁস হয়ে পরিচয় চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে সব তথ্য সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত রাখা দুষ্কর হলেও কিছু পদক্ষেপে তথ্য সংগ্রহের পরিমাণ কমানো যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ সীমিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় অনলাইন কুইজ বা সার্ভে এড়িয়ে চলা এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতি না দেওয়া তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি কমায়।

পাশাপাশি অ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংসে লোকেশন পারমিশন, বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণ ও তথ্য শেয়ারিং এর অনুমতি পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করা যায়। অনলাইন কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবায় নিবন্ধনের জন্য আলাদা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার এবং পুরোনো অ্যাকাউন্ট ও অব্যবহৃত অ্যাপ মুছে ফেলাও কার্যকর উপায়। এছাড়া ফিশিং অ্যাটাক থেকে সুরক্ষিত থাকতে কোনও ওয়েবসাইট বা সেবায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেটির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা এবং কী উদ্দেশ্যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। এ ছাড়া অনেক ডেটা ব্রোকারের ওয়েবসাইটে ‘অপ্ট-আউট’ ফরম থাকে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ