শাহজাদপুর সংবাদ

অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩০ PM

অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন

ইসলামি জীবনদর্শনে অসুস্থতাকে শুধু শারীরিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখা হয় না; বরং একে জীবনের এক বিশেষ পরীক্ষা এবং পাপমোচনের আত্মিক মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অসুস্থ হলে নিষ্ক্রিয় বসে থাকার সুযোগ নেই।

ইসলামে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া এবং পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত বা দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য প্রার্থনা করা—উভয়ের সুন্দর সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

সাহাবিরা নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমরা কি অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করব?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫)

কোরআনের প্রথমে উল্লেখিত সুরা ফাতিহার আরেক নাম ‘আশ-শাফিয়া’ বা ‘আরোগ্যকারী সুরা’। যেকোনো শারীরিক অসুস্থতার সময়ে সুরা ফাতিহা পাঠ করে ফুঁ দেওয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) সুরা ফাতিহা পাঠ করে বিষাক্ত বিচ্ছু কামড়ানো এক ব্যক্তিকে ফুঁ দিয়ে সুস্থ করেছিলেন। পরে নবীজি ঘটনা শুনে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কীভাবে জানলে যে এটি একটি আরোগ্যের দোয়া?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪৯)

আমল অনুযায়ী, রোগাক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিংবা তাঁর কোনো প্রিয়জন পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে ৭ বার সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে ফুঁ দিতে পারেন। এটি অন্তরে ইমানি শক্তি জোগায় এবং আল্লাহর ওপর অটল নির্ভরতা তৈরি করে।

অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা কিংবা নিজে ব্যথা-বেদনায় আক্রান্ত হলে রাসুল (সা.) আশার বাণী শোনাতেন। তিনি বিশেষ দোয়া পাঠ করার তাগিদ দিতেন। তেমন একটি দোয়া হলো:

উচ্চারণ: লা বা’সা ত্বহুরুন ইন শা-আল্লাহ।

অর্থ: ‘কোনো ক্ষতি নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় এটি (পাপ থেকে) পবিত্রতার মাধ্যম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)

এই দোয়া স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই সাময়িক শারীরিক কষ্ট মানুষের জীবনের পূর্ববর্তী ভুলত্রুটি ধুয়েমুছে আত্মাকে পবিত্র করে দেয়।

যখন পায়ের আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তখন শরীরের নির্দিষ্ট অংশে হাত রেখে পাঠ করার জন্য রাসুল (সা.) সাহাবিদের একটি সুনির্দিষ্ট দোয়া শিখিয়েছিলেন।

সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস (রা.) শরীরে তীব্র ব্যথার অভিযোগ নিয়ে নবীজির কাছে এলে তিনি তাঁকে নির্দেশ দেন, ‘তুমি তোমার শরীরের যে স্থানে ব্যথা অনুভব করছ, সেখানে তোমার ডান হাত রাখো এবং তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলো, অতঃপর সাতবার দোয়া পাঠ করো।’

উচ্চারণ: আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।

অর্থ: ‘আমি আল্লাহ এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি সেই কষ্ট থেকে, যা আমি অনুভব করছি এবং যার ভয় করছি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২০২)

আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ আদব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি:

দোয়ার সূচনা ও সমাপ্তি: মোনাজাত শুরুর আগে আল্লাহর প্রশংসা (যেমন: আলহামদুলিল্লাহ) করা এবং নবীজির ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা। দোয়ার শেষেও একইভাবে দরুদ ও হামদ দিয়ে সমাপ্তি টানা।

নিজের ভাষায় আকুতি পেশ করা: দোয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা জানানো।

চিকিৎসা বজায় রাখা: চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাওয়া এবং প্রচুর পানি পান করা একটি শারীরিক দায়িত্ব।

ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া উল্লেখ করেছেন যে ওষুধের কাজ হলো শরীরের জৈবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, আর দোয়ার কাজ হলো আত্মার ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করা; যখন দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা একত্র হয়, তখন আল্লাহর হুকুমেই পূর্ণ আরোগ্য অর্জিত হয়। (ইবনুল কাইয়িম, জাদুল মাআদ, ৪/১২৬, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৯৯৮)

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ

অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন | শাহজাদপুর সংবাদ