বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫
করোনার ক্রান্তিকাল ও বন্যায় গবাদীপশুর রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুরের হাজার গো-খামারিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। এলাকায় প্রতিদিন উৎপন্ন লাখ লাখ লিটার দুধ ও পালিত গবাদী পশুকে নিয়ে তারা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় পড়েছেন। করোনার প্রকোপে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় মিল্কভিটাসহ শাহজাদপুরের ১৪টি বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টে দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। গত কোরবানির ঈদে গো-খামারি, চাষি ও মওসুমি ব্যবসায়ীদের লালিত গবাদীপশুর চাহিদা, বেচাবিক্রি কম হওয়ায় এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এলাকার গো-খামারি, চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, বন্যায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকটে দানাদার গো-খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে শাহজাদপুরের অনেক গো-খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে শাহজাদপুরের লাখ লাখ গবাদীপশু নিয়ে খামারিরা মহাবিপাকে পড়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। এর সিংগভাগই বাঘাবাড়ির মিল্কভিটা কারখানায় ও অবশিষ্টাংশ বিভিন্ন বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে এবং ঘোষেরা সংগ্রহ করে থাকে। শাহজাদপুরের ভরপুর গো-সম্পদের ওপর নির্ভর করে শাহজাদপুরসহ আশপাশে মিল্কভিটা ছাড়াও প্রাণ, আকিজ, আফতাব, ব্র্যাক ফুড (আড়ং), অ্যামোফ্রেস মিল্ক, আড়ং দুধ (ব্র্যাক), ফার্মফ্রেস, রংপুর ডেইরি, ইছামতি ডেইরি, সেফ মিল্ক কোয়ালিটি, বিক্রমপুরসহ ১৪টি বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে আঞ্চলিক ও শাখা দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে ঘিরে শাহজাদপুর ছাড়াও পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের জীবীকার পথ হিসেবে গরু পালন ও দুধের ব্যবসা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। গো-শিল্পটি লাভজনক হওয়ায় অঞ্চলে গড়ে ওঠা গো-খামারের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত দুধ নানা প্রক্রিয়ায় দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনার ক্রান্তিকালে তরল দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। মিষ্টি ও চায়ের দোকানিরাও বর্তমানে আগের মতো দুধ কিনছেন না। ফলে উৎপন্ন দুধ নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। বন্যার মধ্যে অনেক খামারি নৌকাযোগে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কম দামে দুধ বিক্রি করছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠাগুলো দুধ সংগ্রহ কমিয়ে দেয়ায় এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্পে নেমে আসে বিপর্যয়। খামারি জানান, ঈদুল ফিতরের পর দুধের দাম কমতে থাকলেও গো-খাদ্যের দাম উল্টো বেড়ে চলেছে। বন্যায় সেই বর্ধিত দামে ফের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ১ হাজার ২৫০ টাকা দামের ৩৭ কেজি ওজনের ভুসির বস্তার দাম ঈদুল ফিতরের পরে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪২০ টাকা। ৩০০ টাকা মণের খড়ের দাম হয়েছে ৫০০ টাকা। খৈল, চিটাগুড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দামই লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। খামারিরা এ দুঃখ দুর্দশার কথা বলতেও পারছেন না আবার সইতেও পারছেন না।

সম্পর্কিত সংবাদ

শেখ হাসিনা কর্তৃক সকল গণহত্যার বিচার করতে হবে - মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন

জাতীয়

শেখ হাসিনা কর্তৃক সকল গণহত্যার বিচার করতে হবে - মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন

কামারখন্দে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী হালিম নিহত

অপরাধ

কামারখন্দে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ সন্ত্রাসী হালিম নিহত

কামারখন্দ উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিকে ‘ডাকাত’ বলা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গল...

হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল

ধর্ম

হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল

আগামীকাল ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে ইয়ামেন শাহাজ...

এখনই বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয়

এখনই বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে: প্রধান উপদেষ্টা

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনই বাস্তবায়ন...

শাহজাদপুরের হাবিবুল্লাহনগর ইউপিতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরের হাবিবুল্লাহনগর ইউপিতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৭নং হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুঃস্থ ও অসহায় ম...

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্ডলের নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ ও হতদ...