শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম পর্বে ছিল

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকে শাসকদের দুঃশাসন,শোষণ,বঞ্চনা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাংগালি জাতীর ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম পরবর্তী গণতান্ত্রীক ও সায়ত্তশাসন ব্যাবস্থা কায়মের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন এবং ঐ নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে আওয়ামীলীগের বিজয় অর্জন পর্যন্ত।

দ্বিতীয় পর্ব ছিল

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত দল আওয়ামীলীগের হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর না করার কারনে বাংগালি জাতির জন্য সাম্য,মানবিক মর্যাদা,সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে বাংগালি জাতির জন্য একটি স্বাধীন ভুখন্ড ও লাল সবুজের পতাকা অর্জনের জন্য সশস্ত্র রক্তক্ষয়ি আত্মবলিদানের মুক্তিযুদ্ধ।


এই দুই পর্বের কোন পর্বে কার কোন অবস্থান ছিল?

স্বাধীন দেশ অর্জনের পর থেকে আমাদের দেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতার অবস্থান বিবেচনায় আমরা কোন পর্বে রয়েছি?

স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে ১৯৭২ সালে আমাদের লিখিত জাতীয় সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় (Preamble) কি লেখা রয়েছে? 

এই তিন প্রশ্নের সঠিক উত্তরের মাঝ দিয়েই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের রাজনীতিকে বুঝতে হবে।

 কে মুক্তিযোদ্ধা কে মুক্তিযোদ্ধা নয় সেটি মুক্তিযুদ্ধের দুই পর্বকে এবং সংবিধানকে বিশ্লেষণ করলেই রাজনৈতিক অতিকথনের হিসেব মিলবে।


আমার ব্যক্তিগত মন্তব্যঃ 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান এবং ৫০ বছরের আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক,শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক লক্ষ্য অর্জনের ফলাফলে এটাই দৃশ্যমান হচ্ছে- আমরা প্রথম পর্বেই রয়ে গেছি। শধু মাঝখানে মিলেছে একটি স্বাধীন ভুখন্ড ও লাল সবুজের স্বতন্ত্র পতাকা।

সুতরাং দলীয় বিবেচনায় ভাতা খাওয়া অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সুবিধাভোগী কিছু মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো ছারা "মুক্তিযুদ্ধ" ও "মুক্তিযোদ্ধা" শব্দ দু'টি নিয়ে গর্ব করার কিছুই নেই।

আমরা কৃষক শ্রমিকেরা মুক্তিযুদ্ধে হেরে গেছি। এখন রাজনীতিতে আমাদের কৃষক শ্রমিকের সন্তানেরাই নিজেদেরকে না চিনে, নিজের গোত্র স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে, বিভিন্ন দলে বিভক্ত ও দলান্ধ হয়ে, একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছি। আমরা মরছি, জেল খাটছি, রাজনদের পারিবারিক রাজতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছি। এ লজ্জা আমাদের কাঁদায়। মেধাবী শিক্ষিত বলে দাবীদার আমলা ও বুদ্ধিজীবিদের শিক্ষার কর্মকৌশল ও প্রয়োগ আমাদেরকে কষ্টের হাসি হাসায়। আমরা লজ্জিত হই।

আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে তবুও একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়েছি। এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা সেই স্বাধীন দেশে গণতন্ত্রহীন রাজতন্ত্র পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষণে ক্ষণে জীবন দিচ্ছে। তারা কেন যেন অশুভ অন্ধ চোরা গলি পথের বাইরে আসতে ভুলে গেছে। জাতির জন্য এর চেয়ে খারাপ খবর আর কি হতে পারে?


বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার


সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক

প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম 

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খৃষ্টাব্দ।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে গ্রামবাসীর হাতে ভুয়া পশু ডাক্তার আটক

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে গ্রামবাসীর হাতে ভুয়া পশু ডাক্তার আটক

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পার জামিরতা গ্রামে গতকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভুয়া পশু ডাক্তারকে আটক ক...

শাহজাদপুরে বিনামূল্যে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে বিনামূল্যে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

'হাত বাড়ানোর প্রত্যয়' এ শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গমাঞ্চল সন্তোষ...

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয়

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ধানম...

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে দুস্থের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্ডলের নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ ও হতদ...

হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল

ধর্ম

হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)’র ওরশ শুরু হচ্ছে কাল

আগামীকাল ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার দরগাহপাড়া গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে ইয়ামেন শাহাজ...

“ বাঙালি জাতীয়তাবাদ-চেতনায় নজরুলের ‘জয় বাংলা’ শীর্ষক প্রবন্ধ”