শাহজাদপুর সংবাদ

৫০ বছর পর সন্ধান মিলল অধরা গ্লুবল কণার

২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:২২ PM

৫০ বছর পর সন্ধান মিলল অধরা গ্লুবল কণার

কোয়ান্টাম ক্রোমোগতিবিদ্যা হলো কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এটি মূলত কোয়ার্ক ও গ্লুওনের তীব্র মিথস্ক্রিয়া ব্যাখ্যা করে। সাধারণ দৃশ্যমান বস্তু তৈরি হতে এদের ভূমিকা অনেক। অপর দিকে কোয়ার্ক হলো মৌলিক অতিপারমাণবিক কণা। তিনটি কোয়ার্ক একসঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রোটন ও নিউট্রনের মতো পরিচিত বারিয়ন গঠন করে। গ্লুবল হলো শক্তির বাহক। এগুলো গোরিলা গ্লু আঠার মতো কোয়ার্কের গঠনকে শক্ত করে ধরে রাখে। কোয়ান্টাম ক্রোমোগতিবিদ্যায় এই কণার অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও প্রায় ৫০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা গ্লুবল কণার সন্ধান করছিলেন। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ের একটি কোলাইডারে কর্মরত বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এক্স(২৩৭০) নামের পরিচিত কণার ভেতরে গ্লুবল কণার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গ্লুবল কণা কোয়ান্টাম ক্রোমোগতিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস। প্রকৃতিতে বলের বাহক দিয়ে তৈরি এটাই একমাত্র কণা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, উচ্চশক্তির কণা সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে গ্লুবল কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই কণা সম্পূর্ণ গ্লুবল দিয়ে তৈরি। গ্লুবল হলো ভরহীন শক্তির বাহক। এটি কোয়ার্কের মধ্যকার তীব্র মিথস্ক্রিয়া পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে প্রোটন ও নিউট্রন একসঙ্গে আবদ্ধ হয়ে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে। নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কণা পদার্থবিজ্ঞানী জিন শান জানান, উৎপন্ন এই গ্লুবল হলো পদার্থের অভূতপূর্ব এক রূপ। এটি তীব্র মিথস্ক্রিয়া ব্যাখ্যার তত্ত্বকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করার পাশাপাশি আমাদের ভৌত জগৎ বোঝার পরিধি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কণাকে প্রায় আলোর গতিতে সংঘর্ষ ঘটানো হলে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই সময় সংক্ষিপ্ত জীবনকালের কিছু উপজাত তৈরি হয়। এর একটি হলো জে/সাই মেসন কণা। এই কণা সংঘর্ষের পরে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয় গ্লুবল অনুসন্ধানের অন্যতম সেরা উপায়। বহু দশক ধরে কলাইডারের মূল লক্ষ্য ছিল গ্লুবল খুঁজে বের করা। ২০২৪ সালে ফিজিক্যাল রিভিও লেটার্স সাময়িকীতে একটি গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ১ হাজার কোটি মেসন ক্ষয় বিশ্লেষণ করে প্রথমবারের মতো এক্স(২৩৭০) কণার ভর ও স্পিন প্যারিটি সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়, যা তত্ত্বীয় ধারণার সঙ্গে পরীক্ষাগারের পরিমাপ সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল। গবেষণার ফলাফল ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনালের উচ্চশক্তি পদার্থবিজ্ঞান সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক্স(২৩৭০) কণার মূল ভিত্তিই হলো গ্লুবল। ২০১১ সালে বেইজিং স্পেকট্রোমিটার৩ প্রথম এক্স(২৩৭০) কণার সন্ধান পায়। চীনের একাডেমি অব সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব হাই এনার্জি ফিজিকসের বেইজিং ইলেকট্রন পজিট্রন কলাইডার ২ ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই যন্ত্রে ইলেকট্রন ও পজিট্রনের সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থবিদ্যার কঠিন রহস্য খোঁজা হয়ে থাকে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ