শাহজাদপুর সংবাদ

২০২৬ ব্যালন ডি’অর: ফেবারিটদের পারফরম্যান্স কেমন ছিল

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM

২০২৬ ব্যালন ডি’অর: ফেবারিটদের পারফরম্যান্স কেমন ছিল

বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচের সব কটিতে খেলে স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন বল জিতেছেন। ক্লাব মৌসুমটা অবশ্য চোটে জর্জরিত ছিল, সিটির হয়ে ৩৩ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২ গোল, কোনো বড় ট্রফি জেতেননি সিটির সঙ্গে। তবু বিশ্বকাপ জয় আর গোল্ডেন বল তাকে ফেবারিটদের তালিকায় সবার ওপরের দিকে রাখছে।

পারফরম্যান্সগোল–অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান দিয়ে রদ্রিকে বোঝানো যায় না। পাসের পর পাস দিয়ে দলের আক্রমণ গড়ায় নেপথ্য ভূমিকা থাকা মিডফিল্ডার বিশ্বকাপে পাস দেওয়ার নতুন রেকর্ডই গড়েছেন।

ট্রফি বিশ্বকাপ (স্পেন)

লা লিগায় ১৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করে বার্সেলোনাকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন, জিতেছেন লা লিগার ‘বর্ষসেরা খেলোয়াড়’–এর পুরস্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ৬ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ফাইনালে ছিলেন মাঠে (১২০ মিনিট)। ক্লাব ও দেশ—দুই জায়গাতেই শিরোপা জেতায় তার দাবিটা বেশ জোরালো।

পারফরম্যান্সগোল-অ্যাসিস্টে মাঝারি, কিন্তু ম্যাচ-ইমপ্যাক্ট অসাধারণলা লিগার সেরা খেলোয়াড়

ট্রফিলা লিগাবিশ্বকাপ (স্পেন)

মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড়দের একজন। লা লিগায় ২৫ গোল করে পিচিচি ট্রফি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন। মোট ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করে জিতেছেন রিয়ালের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ লিগে রানার্সআপ হয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিয়েছে। বিশ্বকাপে ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে চতুর্থ হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এমবাপ্পে বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন; মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই হয়ে গেছেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা বিশাল হলেও বড় দলগত ট্রফির ঘাটতি আছে।

পারফরম্যান্সলা লিগা: ২৫ গোলচ্যাম্পিয়নস লিগ: ১৫ গোলবিশ্বকাপ: ১০ গোল, গোল্ডেন বুট

ট্রফিবড় কোনো দলগত ট্রফি নেই, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল (ফ্রান্স)

এই সময়কালে সবচেয়ে দুর্দান্ত পরিসংখ্যান সম্ভবত তাঁরই। ক্লাব ও দেশের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট! বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন, বায়ার্নকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা ও ডিএফবি পোকাল (কাপ ফাইনালেই হ্যাটট্রিক) দুটি শিরোপা, সঙ্গে সুপার কাপ। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। বিশ্বকাপে ৬ গোল করে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে তুলেছেন, যা গত ৬০ বছরে তাদের সেরা ফল। ট্রফি ও গোল দুই দিক থেকেই তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

পারফরম্যান্সমোট গোল: প্রায় ৭৩ (ক্লাব + দেশ)বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেমিফাইনাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড

ট্রফিবুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, জার্মান সুপার কাপ

বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে টানা দ্বিতীয়বার পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন (আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে)। চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ৮ গোল, দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা কাভারাস্কেইয়া করেছেন ১০ গোল। তবে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ায় দেম্বেলের ব্যক্তিগত দাবিটা কিছুটা দুর্বল হয়েছে। কাভারাস্কেইয়ার জর্জিয়া বিশ্বকাপে খেলেনি।

৩৯ বছর বয়সে নিজের শেষ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়েছেন, জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত থেকেছেন। শিরোপা ছাড়া তাঁর দাবিটা জোরালো হচ্ছে না। ইন্টার মায়ামির পারফরম্যান্স খুব বেশি বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।

পারফরম্যান্স৪৯ ম্যাচে ৭৫ গোল অবদান (গোল + অ্যাসিস্ট)মৌসুমে ৪৪ গোল, ৩০ অ্যাসিস্ট

ট্রফিএমএলএস কাপবিশ্বকাপ ফাইনাল (আর্জেন্টিনা)

বাকিদের মধ্যে আর্লিং হলান্ড প্রিমিয়ার লিগে ২৭ গোল করে টানা গোল্ডেন বুট জিতলেও নরওয়ে বিশ্বকাপে বড় কিছু করতে পারেনি। জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভালো খেলেছেন, কিন্তু দলীয় ট্রফির অভাবে এগিয়ে নেই। রদ্রি, ইয়ামাল ও কেইন—এই তিনজনকেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ফেবারিট ধরা হচ্ছে। কারণ, তিনজনই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলগত শিরোপা—দুই দিক থেকেই এগিয়ে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ