২০০৯ সালে পরিচয়, রাত ১২টায় তাঁর এসএমএস আপ্লুত করেছে অপু বিশ্বাসকে
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৩:৪৬ PM

দুই দশক ধরে ঢালিউডে কাজ করছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। আজ ১১ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। দিনটির শুরুতে তিনি যখন কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে, তখন ছেলের সঙ্গে কেক কাটার পর্ব শেষ করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।
জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে, যেগুলো মানুষকে বদলে দেয়, আবার কিছু স্বপ্ন থাকে, যেগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। ৩৭–এ পা দিয়ে পেছনের কোনো অধ্যায় নতুন করে লিখতে ইচ্ছা করে? নাকি এবার অতীতের হিসাব না মিলিয়ে নিজের মতো করে সামনের পথ চলতে চান?
অপু বিশ্বাস: আসলে জীবন কখনো হিসাব–নিকাশ মেনে চলে না। পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, জীবনে যা কিছু ঘটেছে, প্রতিটি অধ্যায়ই সুন্দর ছিল। যেভাবে জীবন এগিয়েছে, সেভাবেই হয়তো সবকিছু হওয়ার কথা ছিল। জীবনকে হিসাব মিলিয়ে চালানো যায় না, জীবন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলে। তাই পেছনে যা হয়েছে, বর্তমানে যা হচ্ছে কিংবা সামনে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত করা ছিল। আমি বিশ্বাস করি, জীবনে যা আসে, তা থেকে কিছু না কিছু শেখার থাকে। তাই অতীতের কোনো কিছু না ভেবে জীবন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
জীবনে একটা সময় আসে, যখন অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণের চেয়ে নিজের কাছে ভালো থাকাটা বেশি জরুরি হয়ে ওঠে। অপু বিশ্বাসের জীবনে কি সেই সময় এসেছে? এখন নিজের মানসিক শান্তির জন্য কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?
অপু বিশ্বাস : জীবনে আমি সব সময় সেলফ রেসপেক্টটা একটু ফোকাস করে এসেছি। কারণ, আমি মনে করি, যখন আমার নিজেকে আমি সম্মানিত করব, তখন অন্যরাও আমাকে সম্মান দেবে। এ জন্য আমার কাছে অলওয়েজ নিজের সম্মানটাকে বজায় রাখার চিন্তা প্রায়োরিটিতে থাকে, একদম হানড্রেড পার্সেন্ট। জীবনে অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জের টাইম এসেছিল, সন্তান জন্মের পর। ঠিক তার পর থেকেই আমার মনে হয়েছে যে জীবনটা আমাকে আজ অপু বিশ্বাস হওয়ার জন্য অনেক বেশি সাপোর্ট করেছে। কারণ, ব্যক্তিজীবনে টানাপোড়েন না হলে কোনো মানুষই নিজেকে পরিপূর্ণভাবে গড়তে পারে না। জাস্ট ওই সময়টুকু আমাকে শক্ত ও পরিপূর্ণ করতে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে।
সেই সময়ে কীভাবে নিজেকে সামলাতে শিখেছেন?
অপু বিশ্বাস : হয়তোবা কথা বা লেখাগুলো পড়ে অনেকে হাসতেও পারে, আবার আমাকে বোকাও বলতে পারে। যেমন: ইমোশন—নিজের ইমোশনকে কী করে কন্ট্রোল করতে হয় বা ইমোশন দিয়ে যে জীবনে চলা যায় না, এটা আমার ওই সময়ের বাস্তব জীবন থেকে এসেছে। তারপর কীভাবে একা চলতে হয় এবং জীবনের সাকসেসটা মানুষের জীবনে আসলেই কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ—এই উত্তর আমাকে শিখিয়েছে। মানুষের জীবনে অনেক সময় হয় যে, অনেক বড় চাওয়া ছিল, সেটা পায়নি, বোধ হয় লাইফটা এখানেই শেষ। কিন্তু আমি শিখেছি যে আসলে লাইফটাকে কীভাবে নতুন করে সামনে এগিয়ে সফলতা অর্জন করতে হয়। তাই আমার কাছে মনে হয়, মানুষের জীবনে যদি কোনো বাধা আসে বা মানুষের জীবনের চাওয়ার পরিপূর্ণতা না পায়, তাহলে সে মানুষ লাইফে অনেক লাকি। কারণ, শিখতে পারবে। এজ এ অপু বিশ্বাস আমি অনেক লাকি যে আমার ব্যক্তিজীবন থেকেই আমার যে শিক্ষাটা আমি অর্জন করেছি বা গ্রহণ করেছি। আজ মনে হয় যে আমি পরিপূর্ণ অপু বিশ্বাস।
মানুষ সাধারণত মনে রাখে আপনি কী অর্জন করেছেন, কতটা জনপ্রিয় হয়েছেন। কিন্তু দিন শেষে নিজের কাছে নিজের সাফল্যের সংজ্ঞা কী? জীবনের এ পর্যায়ে এসে কোন বিষয়টি অর্জন করতে পারলে মনে হবে, ‘এবার সত্যিই নিজের জন্য বাঁচতে পারছি’?
অপু বিশ্বাস : মানুষ হিসেবে আমি তো আজীবন বেঁচে থাকতে আসিনি। আমার কাছে দিন শেষে সাফল্যের সংজ্ঞা হচ্ছে—আমার কর্ম, আমার যোগ্যতা, কী করে যাচ্ছি, যেটা মানুষ আমার আড়ালে বলবে। আর যেহেতু আমি একজন মা, অবশ্যই আমি সব সময় চিন্তা করি যে আমার সন্তানের মধ্যে আমার আলোটাকে বজায় রাখতে। আসলে মানুষ যা বলুক, এই সময়ে এসে আমি নিজেই আসলে আইডেনটিফাই করতে পারিনি যে, আসলে আমি এখনো বাঁচতে পারছি...। কারণ, চাহিদা তো আমার এখনো অনেক। তবে হ্যাঁ, এটুকু মনে হয় যে যেহেতু আমি একজন চিত্রনায়িকা, আমি কাজ করেছি। যখন মানুষ আমাকে দেখে এবং সবাই বলে যে, আপনিই কি লাস্ট বাংলা সিনেমার একজন নায়িকা যে আপনাকে মনে রেখেছে গ্রামগঞ্জের মানুষসহ সবাই? তখন মনে হয় যে, না, হয়তো কাজ করেছি, নয়তো এ কথা বলার কথা নয়।
জন্মদিনের রাত ১২টায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনা কী ছিল? যেটা কেউ জানে না...
অপু বিশ্বাস : আমার জীবনে একজন মানুষ আছেন, যাঁর সঙ্গে পরিচয় ২০০৯ সালে। এবারের জন্মদিনে ঠিক রাত ১২টায় তাঁর একটি ছোট্ট এসএমএস—বিষয়টি আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। আমি আপ্লুত। যেটা আমার এবারের জন্মদিনটাকে অনেক কালারফুল মনে হয়েছে। একটা এসএমএস জন্মদিনটা অনেক বেশি কালারফুল করে দিয়েছে। আর জীবনে আমার সন্তান জয় আসার পর থেকে জন্মদিনের আনন্দও অন্য রকম হয়েছে। আগে সে আমার কোলে থাকত, আর এখন পাশে বসে থাকে। এবারও রাত ১২টার পর জয়কে পাশে নিয়ে কেক কেটেছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মেমোরেবল। আবার আমার কাছের কিছু মানুষ, ঠিক ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে যখন ফোনটা করে, যেটা আমি আশা করে থাকি—এ বিষয়গুলো আমার কাছে সব সময়ই অনেক নতুন এবং জন্মদিনটাকে মনে করিয়ে দেয় যে আজ আমার বিশেষ দিন।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
বক্স অফিসের পর গ্র্যামির জন্য লড়বে ‘ধুরন্ধর ২’, ব্যাপক ক্যাম্পেইনের আয়োজন
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:৩০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
‘জেলার ২’-তে তামান্নার জন্য গান চেয়েছিলেন রজনীকান্ত, রাজি হননি পরিচালক
১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে তারকারা, শাবানা আজমি থেকে নাসিরউদ্দিন শাহ কে কী বলেছেন
১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:৩০ PM · প্রথম আলো
