শাহজাদপুর সংবাদ

সৌরভ–রাঙ্কাকে জামিন দিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে কি আসলেই হুমকি দেওয়া হয়েছে, কী বলছে সিজেপি

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:৩৬ PM

সৌরভ–রাঙ্কাকে জামিন দিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে কি আসলেই হুমকি দেওয়া হয়েছে, কী বলছে সিজেপি

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের জেলহাজতের মেয়াদ ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘হুমকি’ দেওয়া হয়েছে, এ কারণ দেখিয়ে তাঁদের জামিন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিং।

রত্না সিং বলেছেন, হুমকির কথা তুলে জামিন প্রসঙ্গ থেকে নজর এড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে তাঁরা উচ্চতর আদালতে যাবেন।

১৩ অক্টোবর লোহার ফটক টপকে জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে ঢোকার অভিযোগে আশুতোষ ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল রোববার ছিল তাঁদের জামিনের শুনানি।

সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, দুপুর ১২টায় শুনানির সময় নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কৌঁসুলি এজলাসে পৌঁছেন বিকেল পাঁচটায়। ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে ঢুকে বলেন, আশুতোষ ও সৌরভদের মুক্তির জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সুরক্ষার স্বার্থে ও তাঁকে প্রভাবিত করার চেষ্টার কারণে তিনি সেদিনের শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পরবর্তী শুনানি আজ সোমবার হওয়ার কথা।

বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত চার দিন এজলাসে আসেননি। পঞ্চম দিন দীর্ঘ সময় পরে এসেই তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের কথা শোনান। বলেন, কেউ তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। বলছেন, গ্রেপ্তার সিজেপি নেতাদের মুক্তি দিতে হবে। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি জামিনের বিষয়টিই এড়িয়ে যান।

এই মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করছেন যিনি, তিনি দিল্লি পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

সিজেপি নেত্রী রত্না সিং বলেন, ‘তাঁদের আইনজীবীরা বলেন, হুমকি পেলে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের ফোন নম্বর জানান। আইনগত ব্যবস্থা নিন। কিন্তু সেই অজুহাতে জামিনের আবেদন কেন শোনা হবে না?’

রত্নার অভিযোগ, জাতীয় পতাকা তোলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে এভাবে আশুতোষ ও সৌরভদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের।

আশুতোষ ও সৌরভের জামিনের জটিলতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রত্না। গতকাল রোববার বিকেল ৪টা বেজে ৪৭ মিনিটে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, দুপুর ১২টায় শুনানি শুরুর কথা ছিল। সে জন্য তিনি বেলা ১১টা থেকেই সংশ্লিষ্ট থানায় হাজির হন। অথচ বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট গরহাজির ছিলেন।

ওই সময় রত্না সিং একাধিক পোস্ট দেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রক্রিয়াগত কারণে ওদের আটকে রাখা উচিত নয়। চার জামিনদারের নথি যে কারণে খারিজ করা হয়েছে, তা–ও অস্পষ্ট বলে রত্নার দাবি। ব্যাংকের স্ট্যাম্প থাকা ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

রত্না লিখেছেন, থানায় এলেও ম্যাজিস্ট্রেট মামলা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। কাউকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়েও কিছু বলেননি।

আশুতোষ ও সৌরভকে জামিন না দিলেও অন্য ঘটনায় গ্রেপ্তার সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকেকে শর্তাধীনে জামিন দেওয়া হয়েছে। দিপকে একা তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে যেতে চাইলে বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ বাহিনী নিয়ে যায়।

আশুতোষ ও সৌরভকে জামিন না দিয়ে আটকে রাখার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন অভিজিৎ। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘আশু ও সৌরভের বেআইনি গ্রেপ্তারি দীর্ঘায়িত করতে এবং তাঁদের মুক্তি আটকাতে রাষ্ট্র নোংরা কৌশল নিয়েছে। দুজনকে কারাগারে আটকে রাখার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাই এই টালবাহানা।’

সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের ওই নোংরা কৌশল অব্যাহত থাকলে তারা উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হবে। এই বিষয়ে আইনি পরামর্শ চলছে।

গতকাল রোববার রাতে দিল্লি পুলিশের বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক ‘নন কগনিজেবল রিপোর্ট’ দায়ের করা হয়েছে। সিজেপি নেতাদের জামিনের আবেদনের শুনানি না হওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের হাজতবাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করা নিয়ে তেলাপোকাদের তরফে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ