সরকারের খরচ কমানোয় অগ্রাধিকার দিতে হবে
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:৫৯ AM

কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতিতে নানা ধরনের চাপ এসেছে। কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে অর্থনীতি চাপের মধ্যে ছিল। এ ছাড়া উত্তরাধিকারসূত্রেও (আওয়ামী লীগ সরকারের আমল) প্রায় সব সূচক নিম্নগামী ছিল। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অর্থনীতি নতুন করে আরও চাপে পড়েছে।
বেতন–ভাতা বৃদ্ধি, বাড়তি দামে জ্বালানি পণ্য আমদানির পাশাপাশি সরকারের নানা ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের জোগান দিতে হবে। এ ছাড়া দেশি–বিদেশি ঋণ পরিশোধের খরচও বাড়ছে। সরকারের ঘাড়ে আগে থেকেই ভারী বোঝা ছিল। এখন সেই বোঝা আরও বাড়ল। এমনিতেই ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি, তাই খরচের চাপ সামলাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর খুব বেশি সুযোগ নেই। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ কম থাকায় খরচের অগ্রাধিকার ঠিক করাই ভালো বিকল্প। এ জন্য সরকারি ব্যয় খাত পর্যালোচনা করা দরকার।
সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলো। এখন পে কমিশনের আওতায় নন, এমন সরকারি চাকরিজীবীরাও বেতন বাড়ানোর দাবি তুলবেন। তাঁদের দাবি অন্যায্য নয়। বেতন–ভাতা বাড়ানোর ফলে বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা লাগবে। দুই বছরের মধ্যে এই অর্থের জোগান রাখতেই হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকার নিজেদের সক্ষমতার কথা বিবেচনা না করেই ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বাড়তি খরচের বেতন-ভাতা বাড়াল। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত অর্থবছরের আদায় করা শুল্ক-করের ২৫ শতাংশের মতো।
বেতন-ভাতার জন্য বিপুল পরিমাণ বাড়তি অর্থের সংস্থানের কথা চিন্তা করা হয়নি। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাড়তি অর্থের জোগান দিতেই হবে। সরকারের মনোভাব এমন, আজ ব্যবস্থা করি, কালকের বিষয় কাল দেখা যাবে। যেন কেউ এসে বেলআউট করবে।
সরকারের বাড়তি অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা নেই, এটাও স্বীকার করা হয় না। এ বছর এনবিআরকে লক্ষ্য অর্জনে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সেটা এনবিআর পারবে না। তাহলে বেতন-ভাতা, জ্বালানি তেল আমদানিসহ বাড়তি খরচ মেটাতে অর্থের জোগান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সরকারের দিক থেকে ভুল পথে হাঁটা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও অনুকূলে নয়। ইরান যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ৬০-৭০ ডলার ছিল। এখন তা ৯৭ ডলারে উঠেছে। এ জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
আবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি খরচও বেড়েছে। ইরান যুদ্ধের আগে প্রতি ইউনিটের দাম ১০-১২ ডলার ছিল। এখন তা দ্বিগুণ হয়েছে। এই খরচের চাপও সরকারকে সামাল দিতে হবে।
প্রতিবছরই দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে। সেখানেও বাড়তি খরচের জোগান দিতে হবে। কিন্তু এত বাড়তি অর্থের জোগানের অর্থ কোথায়? কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। আবার বাড়তি অর্থ শুধু এক বছরের জন্য লাগবে, তা নয়। এটি এককালীন সমস্যা নয়। প্রতিবছরই বেতন-ভাতার জন্য বাড়তি ১ লাখ কোটি টাকা লাগবে। বরং এটি চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে।
তাহলে টাকা জোগানের উৎস কী। সংস্কার ছাড়া বর্তমান রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে রাজস্ব আদায় খুব বাড়বে না। আবার টাকা ছাপিয়ে বেতন–ভাতা দেওয়াও সঠিক বিকল্প নয়। আবার ধারদেনা করে খরচের জোগান দেওয়াও ঠিক হবে না। তাহলে সরকারের খরচ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। খরচ কমানোর সুযোগগুলো নিতে হবে। এ জন্য সরকারি ব্যয় খাতগুলোর পর্যালোচনা করা দরকার।
জাহিদ হোসেন: বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
ওয়ার্কশপ থেকে শতকোটি টাকার কারখানা, বছরে তৈরি হয় আড়াই হাজার কৃষিযন্ত্র
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM · প্রথম আলো
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ: দেশজুড়ে বাপার প্রশিক্ষণ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৩২ PM · রাইজিংবিডি
ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি বাজারে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন: মাসুদ খান
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:১৫ PM · রাইজিংবিডি
