শাহজাদপুর সংবাদ

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:২৮ PM

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য অন্য অনেকে নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ পাননি। তাঁর সন্দেহ, যাচাই বা ভেরিফিকেশনের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদের কোটাও ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরটি শোনার পর মা কাঁদতে শুরু করেন। বাবা ভেঙে পড়েছেন।

শুধু জাহিদ নন, তাঁর মতো শত শত চাকরিপ্রার্থীকে যাচাইয়ের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজটি করানো হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি। উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলায় নিয়োগ হয় জেলা পরিষদের মাধ্যমে। আর ছয়টি জেলায় নিয়োগের তালিকা গতকাল শনিবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি সঠিক কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রথম আলো ১১টি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পেরেছে, এসব জেলায় বাদ পড়ার সংখ্যা ৫৫৪। জেলাগুলো হলো ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, জামালপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তখন সেই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মোট কতজনের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাকরি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানান।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং অপরাধে জড়ানোর তথ্য থাকলে তাঁকে নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যায়; কিন্তু বাস্তবে যাচাইয়ের নামে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয় এবং তা দেখে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক/নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই চর্চা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও তা দেখা যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের মতো জায়গায়ও রাজনৈতিক বিবেচনা অশনিসংকেত।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদও শূন্য রয়েছে।

বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগ হয় ২০ শতাংশ। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে একটি মামলা চলছিল। গত বছরের জুলাইয়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই জটিলতা কেটে যায়। এরপর প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সরকারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। যেমন ময়মনসিংহ জেলায় নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়োগপত্র বা নিয়োগের তালিকায় আছেন ২১৭ জন। অর্থাৎ ৪২ জন নিয়োগপত্র পাননি। ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁরা হয়তো চাকরিতে যোগ দেবেন না। এর বাইরে আরও ২৪ জন নিয়োগপত্র পাননি।

সূত্র বলছে, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ নিয়োগপত্র পায়নি গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক (বিরূপ) মন্তব্যের কারণে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের চর্চাটি পুরোনো। এটি চালু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। ওই সময় মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমন করতে চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই চর্চা বাদ দেওয়া হয়নি। সূত্র জানিয়েছে, পুলিশি যাচাইয়ে মূলত নির্ধারিত ফরমে উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হওয়ার ইতিহাস আছে কি না, নজরবন্দী বা বহিষ্কার হলে তার তারিখসহ পূর্ণ বিবরণ ইত্যাদি। তবে পুলিশি যাচাইয়ের বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

দলীয় সরকারগুলো সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে এবং নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করে। জনপ্রশাসনের দলীয়করণও করা হয় এই যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা কোনো গোয়েন্দা বিভাগের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিল করার সুপারিশ করে। কারণ হিসেবে কমিশন বলেছে, এ স্তর থেকেই জনপ্রশাসনে রাজনীতিকরণ শুরু হয়। এ ছাড়া কমিশন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল ঘোষিত হওয়ার আগে কোনো প্রার্থীর পুলিশি যাচাই বাতিল করার সুপারিশ করে।

কমিশন প্রতিবেদনে বলেছিল, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ বিভাগের কাছে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, সে সম্পর্কে প্রতিবেদন চাইবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদন চাইতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জানানো হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২৮তম বিসিএস থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ করা অনেক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে ২৫৯ জনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অভিযোগ ওঠে যে তারাও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে অনেককে বাদ দিয়েছে। যেমন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএসের ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নিয়োগে পিএসসির সুপারিশ পাওয়া ২৬৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২২৭ জন প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য ছিল। এ কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়। বাকি ৪০ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তখন মন্ত্রণালয় বলেছিল, নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত ২২৭ জনের যে কেউ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সরকারি চাকরিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, চাকরিতে নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে পুলিশ যাচাই করতে পারে। পুলিশ যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ, দাগি অপরাধী হওয়া বা এ ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য পায়, কেবল সে ক্ষেত্রে ওই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, অতীতেও নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।

ফিরোজ মিয়া বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি পুরো জনপ্রশাসনকেই বিশৃঙ্খল করে তোলে। এখনো যদি এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।

দেশে এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। সরকারি নিয়োগ বেশি নয়, বেসরকারি খাতে মন্দাভাব চলছে। এ সময় একটি সরকারি চাকরির সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় হতাশ অনেকে।

সহকারী শিক্ষকদের পদটি সরকারি বেতনকাঠামোর ১৩তম ধাপের (গ্রেড)। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী এই পদে শুরুতে ভাতাসহ মোট বেতন হবে সর্বনিম্ন ৩৬ হাজার টাকার মতো। ফলে চাকরিটি আকর্ষণীয়।

চাকরিপ্রার্থীদের কেউ কেউ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাদ পড়ায় উদ্বিগ্ন। তাঁরা মনে করছেন, একই কারণে তাঁদের হয়তো আর কোনো সরকারি চাকরি পাওয়া হবে না। সেটা জানানোও হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিনাজপুরের একজন চাকরিপ্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের কেউ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তারপরও কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কিত। অন্য চাকরিতেও তাঁকে সমস্যায় ফেলা হতে পারে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কুষ্টিয়া এবং প্রতিনিধি, দিনাজপুর, নড়াইল, চাঁদপুর, জামালপুর, নীলফামারী, ঝালকাঠি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংবাদদাতা, রংপুর]

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ